ঢাকা-কক্সবাজার বাস সার্ভিস 2026 (ভাড়া ও টিকেট)
ঢাকা-কক্সবাজার বাস সার্ভিসের এসি বাসের ভাড়া শুরু হচ্ছে ১৩০০ টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ২৫০০ টাকা পর্যন্ত, আর ননএসি বাসের ভাড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। গ্রীন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সোহাগ পরিবহন ও শ্যামলী এন আর পরিবহন এই রুটের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটর।
ঢাকা-কক্সবাজার বাস সার্ভিস এখন আগের চেয়ে অনেক সহজলভ্য। প্রতিদিন কয়েক ডজন কোম্পানি এই রুটে বাস চালায়, ফলে যাত্রীদের সামনে বেছে নেওয়ার সুযোগও বেড়েছে অনেকখানি। তবে বাজেট, আরাম ও নিরাপত্তাএই তিনটি বিষয় বিবেচনা করেই সঠিক বাস বেছে নেওয়া জরুরি। এই আর্টিকেলে আমরা এসি ও ননএসি দুই ধরনের বাসের সম্পূর্ণ ভাড়া তালিকা, টিকেট বুকিং প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় সব তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব, যাতে যাত্রা শুরুর আগেই আপনি প্রস্তুতি নিতে পারেন।
ঢাকা-কক্সবাজার এসি বাসের ভাড়া কত?
ঢাকা-কক্সবাজার এসি বাসের ভাড়া বাসের ব্র্যান্ড ও সিট ক্লাসভেদে ১৩০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে থাকে। স্লিপার বেড ও বিজনেস ক্লাস সিটের ভাড়া তুলনামূলক বেশি, আর ইকোনমি ক্লাসে ভাড়া কম। নিচে ভাড়া তালিকা দেওয়া হলো যাতে আপনি সহজেই নিজের বাজেট অনুযায়ী বাস বেছে নিতে পারেন।
| বাসের নাম | বাসের ব্র্যান্ড | বাসের সিট | ভাড়া (টাকা) |
|---|---|---|---|
| গ্রীন লাইন পরিবহন | স্ক্যানিয়া/ভলভো | স্লিপার বেড | ২৫০০ |
| গ্রীন লাইন পরিবহন | ম্যান ডাবল ডেকার | বিজনেস ক্লাস | ২২০০ |
| গ্রীন লাইন পরিবহন | স্ক্যানিয়া/ভলভো | বিজনেস ক্লাস | ২০০০ |
| গ্রীন লাইন পরিবহন | স্ক্যানিয়া/ভলভো | ইকোনমি ক্লাস | ১৫০০ |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | ভলভো | বিজনেস ক্লাস | ২০০০ |
| সোহাগ পরিবহন | স্ক্যানিয়া ডাবল ডেকার | বিজনেস ক্লাস | ২২০০ |
| সোহাগ পরিবহন | স্ক্যানিয়া মাল্টি এক্সেল | বিজনেস ক্লাস | ২০০০ |
| রবি এক্সপ্রেস | হুন্দাই | বিজনেস ক্লাস | ২০০০ |
| রবি এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৮০০ |
| লন্ডন এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| দেশ ট্রাভেলস | হুন্দাই | বিজনেস ক্লাস | ১৮০০ |
| শ্যামলী এন আর পরিবহন | হুন্দাই | বিজনেস ক্লাস | ২০০০ |
| শ্যামলী এন আর পরিবহন | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১৪০০ |
| রিলাক্স ট্রান্সপোর্ট | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১৫০০ |
| আইকনিক এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| রিলাক্স কিংস সার্ভিস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| দোয়েল এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| সেঁজুতি ট্রাভেলস | হাইগার | ইকোনমি ক্লাস | ১৩০০ |
| সেঁজুতি ট্রাভেলস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| তুবা লাইন | অ্যানকাই | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| রয়েল কোচ | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৬০০ |
| সৌদিয়া কোচ সার্ভিস | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১৪০০ |
| সেন্টমাটিন পরিবহন | অশোক লিল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| সেন্টমাটিন পরিবহন | হুন্দাই | বিজনেস ক্লাস | ১৮০০ |
| সেন্টমাটিন পরিবহন | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১৪০০ |
| বেঙ্গল পরিবহন | অশোক লিল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৬০০ |
| হেরিটেজ ট্রাভেলস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৫০০ |
| সেন্টমাটিন ট্রাভেলস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৬০০ |
| ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| গ্রীন সেন্টমাটিন এক্সপ্রেস | ইসুজু | বিজনেস ক্লাস | ১৬০০ |
| আরাবিয়ান এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| জুই এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| সেন্টমাটিন এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| সিভিউ এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৬০০ |
| টুডে ট্রাভেলস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| আল মিজান | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| ইউরো কোচ | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৮০০ |
| এশিয়া এয়ারকন | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| কক্স ভিউ ট্রাভেলস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ২০০০ |
| প্যালেসটাইন এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | ইকোনমি ক্লাস | ১৪০০ |
| দোয়েল এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৫০০ |
| সেন্টমার্টিন সিভিউ ট্রাভেলস | অশোক লেল্যান্ড | স্লিপার বেড | ১৭০০ |
| হামজা এক্সপ্রেস | অশোক লেল্যান্ড | ইকোনমি ক্লাস | ১৪০০ |
লক্ষ্য করলে দেখবেন, গ্রীন লাইন পরিবহনের স্লিপার বেড সবচেয়ে বেশি ভাড়ায় (২৫০০ টাকা) পাওয়া যায়, যা এই রুটের সবচেয়ে বিলাসবহুল অপশন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে গেলে, গ্রীন লাইনের স্লিপার বেডে দীর্ঘ যাত্রায় আরামের দিক থেকে সত্যিই পার্থক্য বোঝা যায় বিশেষ করে যারা রাতের বাসে ঘুমিয়ে যেতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর।
অন্যদিকে, বাজেট-সচেতন যাত্রীদের জন্য সেঁজুতি ট্রাভেলসের হাইগার ইকোনমি ক্লাস (১৩০০ টাকা) সবচেয়ে সাশ্রয়ী অপশনগুলোর একটি। ফলস্বরূপ, বাজেট ও আরামের মধ্যে ভারসাম্য রেখে বাছাই করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ঢাকা-কক্সবাজার এসি বাসের ভাড়া সিট ক্লাসভেদে ১৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে স্লিপার বেড সবচেয়ে বেশি আর ইকোনমি ক্লাস সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যায়।
ঢাকা-কক্সবাজার ননএসি বাসের ভাড়া কত?
ঢাকা-কক্সবাজার ননএসি বাসের ভাড়া সাধারণত ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে থাকে। এসি বাসের তুলনায় ভাড়া অনেকটাই কম হওয়ায় স্বল্প বাজেটের যাত্রীদের কাছে এই বাসগুলো বেশ জনপ্রিয়।
| বাসের নাম | বাসের ব্র্যান্ড | বাসের সিট | ভাড়া (টাকা) |
|---|---|---|---|
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১০০০ |
| ইউনিক সার্ভিস | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১১০০ |
| শ্যামলী পরিবহন | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১০০০ |
| এস.আলম সার্ভিস | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১০০০ |
| সৌদিয়া কোচ সার্ভিস | হিনো | ইকোনমি ক্লাস | ১০০০ |
| সেন্টমাটিন পরিবহন | অশোক লেল্যান্ড/হিনো | বিজনেস ক্লাস | ১২০০ |
| রিলাক্স কিং সার্ভিস | অশোক লেল্যান্ড | ইকোনমি ক্লাস | ১১০০ |
| আল মিজান | অশোক লেল্যান্ড | ইকোনমি ক্লাস | ১১০০ |
ননএসি বাসগুলোর মধ্যে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন ও এস.আলম সার্ভিস সবচেয়ে কম ভাড়ায় (১০০০ টাকা) সেবা দিচ্ছে। এই বাসগুলো মূলত দিনের বেলা চলাচল করে এবং স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য বেশ সুবিধাজনক।
উপরন্তু, সেন্টমাটিন পরিবহনের বিজনেস ক্লাস (১২০০ টাকা) কিছুটা বাড়তি আরাম দিলেও এসি বাসের তুলনায় খরচ অনেক কম। ফলে যারা এসি ছাড়াই একটু প্রশস্ত সিটে ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি ভালো মধ্যবর্তী অপশন।
তবে মনে রাখা জরুরি, ননএসি বাসে দীর্ঘ ৯-১০ ঘণ্টার যাত্রায় গরমের কারণে কিছুটা অস্বস্তি হতে পারে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। তাই মৌসুম বুঝে বাস বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস সার্ভিসে যাত্রার সময় কত লাগে?
ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস সার্ভিসে সাধারণত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লাগে, রাস্তার অবস্থা ও ট্রাফিকের উপর নির্ভর করে। রাতের বাসগুলো তুলনামূলক কম সময়ে পৌঁছায়, কারণ তখন রাস্তায় যানজট কম থাকে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে বাসগুলো কক্সবাজার পৌঁছায়। চট্টগ্রাম শহর অতিক্রম করার সময় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে, বিশেষ করে অফিস আওয়ারে। অন্যদিকে, ঈদ বা পর্যটন মৌসুমে সময় আরও বেড়ে ১২-১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
ঢাকা-কক্সবাজার বাসের টিকেট কীভাবে বুক করবেন?
ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাস সার্ভিসের টিকেট অনলাইনে, মোবাইল অ্যাপে অথবা সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে বুক করা যায়। অনলাইন বুকিং সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত পদ্ধতি, বিশেষ করে ছুটির মৌসুমে যখন কাউন্টারে ভিড় বেশি থাকে।
টিকেট বুকিংয়ের সাধারণ পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: বিভিন্ন বাস টিকেট বুকিং ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বাসের নাম, তারিখ ও সিট নির্বাচন করে সহজেই টিকেট কাটা যায়।
- কোম্পানির নিজস্ব হটলাইন: প্রতিটি বাস কোম্পানির নিজস্ব হটলাইন নম্বরে কল করে সিট বুক করা যায়।
- কাউন্টারে সরাসরি: কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও গাবতলীর কাউন্টার থেকে সরাসরি টিকেট কেনা যায়।
আমার নিজের অভিজ্ঞতায়, ঈদের আগে বা লম্বা ছুটির সময় অন্তত ৫-৭ দিন আগে টিকেট বুক করে রাখাই ভালো, কারণ তখন জনপ্রিয় বাসগুলোর স্লিপার বেড দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। উপরন্তু, রাতের বাসের টিকেট দিনের বাসের চেয়ে আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকার কোন কাউন্টার থেকে বাস ছাড়ে?
ঢাকার প্রধান বাস কাউন্টারগুলো হলো কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও গাবতলী। বেশিরভাগ কোম্পানির একাধিক কাউন্টার থাকায় যাত্রীরা নিজের এলাকা অনুযায়ী সুবিধাজনক কাউন্টার বেছে নিতে পারেন।
এছাড়া, অন্যদিকে যারা উত্তরা বা এয়ারপোর্ট এলাকায় থাকেন, তাদের জন্য কিছু কোম্পানি বিমানবন্দর এলাকাতেও পিকআপ পয়েন্ট রাখে। বুকিংয়ের আগে নির্দিষ্ট কাউন্টারের অবস্থান নিশ্চিত করে নেওয়াই ভালো।
ঢাকা-কক্সবাজার বাসে যাত্রার আগে কী কী বিষয় মাথায় রাখা উচিত?
ঢাকা-কক্সবাজার বাসে যাত্রার আগে সিট নির্বাচন, লাগেজ নিয়ম এবং যাত্রার সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এতে যাত্রাপথে অযথা ঝামেলা এড়ানো যায়।
- রাতের যাত্রায় স্লিপার বেড বেছে নিলে ঘুমানোর সুবিধা পাওয়া যায়।
- জানালার পাশের সিট নিলে সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি রাস্তার দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
- বেশিরভাগ কোম্পানি ২০-২৫ কেজি পর্যন্ত লাগেজ বিনামূল্যে বহন করে।
- যাত্রার অন্তত ৩০ মিনিট আগে কাউন্টারে পৌঁছানো উচিত।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাসগুলোকে নির্দিষ্ট বিরতি স্থানে যাত্রাবিরতি দিতে হয়, যেখানে যাত্রীরা খাবার ও বিশ্রামের সুযোগ পান। ফলে দীর্ঘ যাত্রায়ও পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে।




