অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপ চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপ শুরু ৬ সেপ্টেম্বর, চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন কার্যক্রম ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হবে। তাই হাতে থাকা সময় কাজে লাগিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয়কোড ও নির্ধারিত ফি আগে যাচাই করে রাখা ভালো।
আবেদন ফরম পূরণের শেষ সময় ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এরপর কলেজের ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়নের শেষ সময় ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫৯ মিনিট এবং ফি জমার সময় ৩০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত। তবে শিক্ষার্থী ও কলেজ—দুই পক্ষের কাজ আলাদা হওয়ায় শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করলে ভুল সংশোধনের সুযোগ কমে যেতে পারে। ফলে আগেই আবেদন ও কাগজপত্রের কাজ শেষ করা নিরাপদ।
- ফরম পূরণ: ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- কলেজের ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন: ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত
- সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি জমা: ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪টা পর্যন্ত
- আবেদন ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে জমা দিতে হবে
অনার্স ৩য় বর্ষ ফরম ফিলাপের সময়সূচি
অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপের প্রথম ধাপ শিক্ষার্থীর আবেদন এবং শেষ ধাপ কলেজের নিশ্চয়ন ও ফি জমা। নির্ধারিত সময় পার হলে অনলাইন কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ শেষ হলেও কলেজের নিশ্চয়ন সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত করা জরুরি।
| ক্রমিক | কার্যক্রম | সময়সীমা |
|---|---|---|
| ১ | আবেদন ফরম পূরণ | ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| ২ | ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়ন | ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত |
| ৩ | ফি জমা | ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকাল ৪টা পর্যন্ত |
| ৪ | কাগজপত্র সংরক্ষণ | ফল প্রকাশের তারিখ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত |
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী, বিবরণী ফরম ও অন্যান্য কাগজপত্র আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দিতে হবে না। বরং সংশ্লিষ্ট কলেজে এগুলো সংরক্ষণ করা হবে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে হিসাব করলে ফরম পূরণ শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের হাতে দুই দিন সময় আছে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য।
কারা আবেদন করতে পারবেন
২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। তবে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ, আগের পরীক্ষার ফল এবং অনুত্তীর্ণ বা অনুপস্থিত কোর্সের তথ্য আলাদা। পাশাপাশি অনলাইন সম্ভাব্য তালিকায় নাম আছে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত পরীক্ষার্থী
নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ প্রযোজ্য। ২০২৪ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষায় প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষে প্রমোশন পাওয়া এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা নিয়মিত হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে।
অনিয়মিত পরীক্ষার্থী
২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০, ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত শ্রেণিতে পড়বেন, যদি তারা আগে দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ হয়ে তৃতীয় বর্ষে প্রমোশন পেয়ে থাকেন। এছাড়া ২০২১, ২০২২, ২০২৩ বা ২০২৪ সালের তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া অথবা অংশ নিয়ে প্রমোটেড বা উত্তীর্ণ না হওয়া শিক্ষার্থীরা অনুত্তীর্ণ কোর্সে পরীক্ষা দিতে পারবেন।
গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থী
২০১৮-২০১৯ থেকে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের যেসব শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চতুর্থ বর্ষে উত্তীর্ণ বা প্রমোটেড হয়েছেন কিন্তু কোনো কোর্সে F গ্রেড পেয়েছেন অথবা একটি পত্রে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের সংশ্লিষ্ট কোর্সে অংশগ্রহণ করতে হবে।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষায় C+, C বা D গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুটি কোর্সে গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। ফলাফল যাই হোক, গ্রেড A- এর বেশি হবে না। তবে গ্রেড উন্নয়নে ব্যর্থ হলে বা পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকলে আগের গ্রেড বহাল থাকবে।
২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের F গ্রেড
২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের এক বা একাধিক কোর্সে F গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীরা মোট ৫,০০০ টাকা ফি দিয়ে শুধু ২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নবায়নের প্রয়োজন নেই।
তবে ফরম পূরণে ব্যর্থ হলে, পরীক্ষায় অংশ না নিলে অথবা অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হলে ভবিষ্যতে আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে আবেদন করা যাবে না। তাই এই শর্তটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ফরম ফিলাপের ফি কত
অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপের ফি কোর্সের ধরন, পরীক্ষার্থীর শ্রেণি এবং কেন্দ্র-সংক্রান্ত খাত অনুযায়ী নির্ধারিত। তাই তত্ত্বীয় পূর্ণ কোর্স, অর্ধ কোর্স, ব্যবহারিক কোর্স, ইনকোর্স ও কেন্দ্র ফি আলাদা করে হিসাব করতে হবে।
| ফি-এর ধরন | হার |
|---|---|
| তত্ত্বীয় পূর্ণ কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা | প্রতি কোর্স ৩০০ টাকা |
| তত্ত্বীয় অর্ধ কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা | প্রতি কোর্স ২৫০ টাকা |
| ব্যবহারিক কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা | প্রতি পত্র বা কোর্স ৩০০ টাকা |
| ইনকোর্স পরীক্ষা ফি | মোট ৪৫০ টাকা |
| কেন্দ্র ফি, তত্ত্বীয় | মোট ৪৫০ টাকা |
| কেন্দ্র ফি, ব্যবহারিক | প্রতি কোর্স ১৭৫ টাকা |
| অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন অতিরিক্ত ফি | প্রতি কোর্স ৬০০ টাকা |
| ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের F গ্রেড | মোট ৫,০০০ টাকা |
| Conditional Promoted শিক্ষার্থী | নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১,৫০০ টাকা |
ইনকোর্স পরীক্ষার ৪৫০ টাকার মধ্যে ১৫০ টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৩০০ টাকা কলেজ ফান্ডে জমা হবে। একইভাবে তত্ত্বীয় কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকার মধ্যে ১৫০ টাকা কলেজের অংশ এবং ৩০০ টাকা কেন্দ্রের অংশ। ব্যবহারিক কেন্দ্র ফি প্রতি কোর্সে ১৭৫ টাকা।
অতিরিক্ত ফি যোগ হওয়ায় একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর মোট খরচ সমান নাও হতে পারে। যেমন, একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীর ফি শুধু কোর্স ও কেন্দ্রের হিসাবের ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোর্সপ্রতি অতিরিক্ত ৬০০ টাকা যুক্ত হতে পারে।
অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম
অনলাইনে আবেদন করতে শিক্ষার্থীকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের EMS পোর্টালে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করতে হবে। এরপর আবেদন ফরমে সিলেবাসে থাকা বিষয়কোড, ব্যবহারিক কোর্স এবং পরীক্ষার্থীর তথ্য সঠিকভাবে নির্বাচন করে ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে হবে।
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের EMS Student Login পেজে প্রবেশ করুন।
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন ফরম খুলুন।
- রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও সিলেবাস দেখে বিষয়কোড নির্বাচন করুন।
- ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট কপি তৈরি করুন।
- নির্ধারিত ফিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানের কাছে জমা দিন।
- কলেজের বিবরণী ফরমে বিষয়কোড সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না যাচাই করে স্বাক্ষর করুন।
বিষয়কোড ভুল হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দায়ী থাকবে না। তাই আবেদন ফরমে কোনো ভুল থাকলে কলেজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ফরম বাতিল করে নতুন করে আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে হবে। ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবসম্মত পদ্ধতি হলো প্রিন্ট দেওয়ার আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ফরম পাশাপাশি রেখে প্রতিটি কোড মিলিয়ে দেখা।
প্রমোশনের ন্যূনতম শর্ত
তৃতীয় বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষে প্রমোশনের জন্য শিক্ষার্থীকে সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সব বিষয়ে অংশ নিয়ে অন্তত ৫০ শতাংশ তত্ত্বীয় কোর্সে D বা তার বেশি গ্রেড এবং ব্যবহারিক কোর্সে পাস করতে হবে। শুধু কয়েকটি ভালো ফল করলেই প্রমোশন নিশ্চিত হয় না।
- সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক।
- কমপক্ষে ৫০ শতাংশ তত্ত্বীয় কোর্সে D বা তার বেশি গ্রেড প্রয়োজন।
- ব্যবহারিক কোর্সে উত্তীর্ণ হতে হবে।
- একটি কোর্সে অনুপস্থিত থেকে অন্য সব কোর্সে D বা তার বেশি হলে ফলাফল Conditional Promoted হবে।
- একাধিক কোর্সে অনুপস্থিত হলে ফলাফল Not Promoted হবে।
- একটি কোর্সে অনুপস্থিত এবং অন্য একটি কোর্সে F গ্রেড থাকলেও Promotion হবে না।
Conditional Promoted শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত কোর্সে ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অবশ্যই অংশ নিতে হবে। অন্যদিকে Promoted বা Not Promoted শিক্ষার্থীরা পরবর্তী বছর অনুপস্থিত ও F গ্রেডের কোর্সে পরীক্ষা দিতে পারবেন। একই সঙ্গে C+, C ও D গ্রেডের সর্বোচ্চ দুটি কোর্সে গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ থাকবে।
সংশোধিত রেগুলেশন অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশনের শুরু থেকে সাত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে F গ্রেডের কোর্স D বা তার বেশি গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। তবে F গ্রেড উন্নীত হয়ে গেলে একই কোর্সে আবার গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া ইনকোর্স ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় গ্রেড উন্নয়নের সুযোগ নেই।
ফি জমা হবে যেভাবে
২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষের নিয়মিত, অনিয়মিত ও গ্রেড উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের ফি সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এ জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের Service মেনু থেকে Sonali Seba নির্বাচন করে কলেজ কোড দিয়ে পে-স্লিপ ডাউনলোড করবে।
- কলেজ কোড ব্যবহার করে Sonali Seba-তে প্রবেশ করতে হবে।
- নির্দিষ্ট Pay Slip ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে হবে।
- পে-স্লিপে উল্লেখিত খাত ও সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর পরীক্ষা করতে হবে।
- প্রিন্ট কপি নিয়ে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় টাকা জমা দিতে হবে।
- শেষ তারিখের মধ্যে জমা রশিদ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করতে হবে।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই Sonali Seba লিংক সক্রিয় থাকবে। তাই আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা টাকা জমা দেওয়া যাবে না। সোনালী সেবা ছাড়া ব্যাংকের অন্য কোনো প্রচলিত ফরমে টাকা জমা দিলে পরবর্তী জটিলতার দায় কর্তৃপক্ষ নেবে না।
কলেজের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্য ও নোটিশ www.nu.ac.bd ও EMS পোর্টালে নজরে রাখা প্রয়োজন। সরবরাহ করা বিজ্ঞপ্তিতে ফি জমার সেবার ঠিকানা হিসেবে nu.ac.bd-এর Service মেনুর উল্লেখ আছে। তবে ব্যবহার করার আগে ব্রাউজারে প্রদর্শিত অফিসিয়াল ঠিকানা যাচাই করুন।
কলেজের নিশ্চয়নে যা জরুরি
কলেজ কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা বা Probable List-এর সঙ্গে জমা পড়া আবেদন ফরম মিলিয়ে দেখতে হবে। যোগ্য শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় না থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট শাখা বা তথ্য প্রযুক্তি দপ্তরে যোগাযোগ করে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
College Login-এর User ID ও Password কলেজ প্রোফাইল বা তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা যাবে। নিশ্চয়ন শেষ হলে অনলাইনে পরীক্ষার্থীদের বিবরণী প্রিন্ট করতে হবে। এরপর প্রিন্ট কপিতে প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে অধ্যক্ষ স্বাক্ষর করবেন।
নিশ্চয়নের সময় একজন শিক্ষার্থীর বদলে অন্য শিক্ষার্থীর তথ্য নির্বাচন বা কোনো আবেদন বাদ পড়া গুরুতর ভুল। তাই নিশ্চয়নের আগে প্রতিটি তথ্য আবার মিলিয়ে দেখা দরকার। নিশ্চয়নের পর ফরম পূরণ নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে না। রেজিস্ট্রেশন কার্ডে থাকা অনার্স বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয় নির্বাচন করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
পরীক্ষার্থীর শেষ মুহূর্তের তালিকা
ফরম জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করলে সাধারণ ভুল অনেকটাই কমে। বিশেষ করে বিষয়কোডের একটি সংখ্যা ভুল হলেও আবেদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার চেয়ে সঠিকভাবে কাজ শেষ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও নাম মিলিয়ে দেখুন।
- রেজিস্ট্রেশন কার্ড অনুযায়ী অনার্স বিষয় নির্বাচন করুন।
- তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক বিষয়কোড আলাদা করে পরীক্ষা করুন।
- নিয়মিত, অনিয়মিত বা গ্রেড উন্নয়ন শ্রেণি সঠিক কি না দেখুন।
- প্রিন্ট কপিতে স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান খালি রাখুন।
- কলেজে জমা দেওয়ার রসিদ বা গ্রহণের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
- কলেজের বিবরণী ফরমে নিজের বিষয়কোড পুনরায় মিলিয়ে স্বাক্ষর করুন।
সাধারণ ভুলগুলো এড়ান
শেষ দিনে আবেদন করা, পুরোনো রেজিস্ট্রেশন কার্ড না দেখে বিষয় নির্বাচন করা এবং কলেজের নিশ্চয়ন হয়েছে ধরে নেওয়া—এই তিনটি ভুল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করে। একইভাবে, Sonali Seba-এর বদলে অন্য পদ্ধতিতে ফি জমা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
বাজেট হিসাবের সময় শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ফি ধরলে চলবে না। বরং কেন্দ্র ফি, ইনকোর্স ফি, ব্যবহারিক ফি এবং প্রযোজ্য অতিরিক্ত ফি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কলেজে জমা দেওয়ার আগে মোট টাকা লিখে একটি ছোট হিসাবপত্র তৈরি করলে ভুল কম হয়।
ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ফলাফল
ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। তাই শুধু ফরম পূরণের সময়সূচি দেখে থেমে থাকলে চলবে না। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর www.nu.ac.bd নিয়মিত দেখা দরকার।
২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিবরণী ফরম ও অন্যান্য কাগজপত্র ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে চার মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কলেজে সংরক্ষণ করতে হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রে এসব কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কেন্দ্র ফি কীভাবে ব্যবহৃত হবে
কলেজ আদায় করা তত্ত্বীয় কেন্দ্র ফি ৪৫০ টাকার মধ্যে ১৫০ টাকা কলেজের কাছে থাকবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত, বিবরণী প্রিন্ট ও ফটোকপির মতো পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে ব্যয় করা হবে। অবশিষ্ট ৩০০ টাকা পরীক্ষার আগে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
কেন্দ্রের অংশের অর্থ দিয়ে উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি গ্রহণ, পরীক্ষা পরিচালনা এবং উত্তরপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর খরচ মেটানো হবে। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ ও সময় আলাদাভাবে প্রকাশিত হবে।
সহযোগিতার ফোন নম্বর
EMS সফটওয়্যার থেকে ফরম পূরণের সময় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিচের নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ফোন করার আগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কলেজের নাম এবং সমস্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হাতে রাখলে সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
- মোঃ মোজাদ্দিরুল ইসলাম (রাজু): ০১৬০৯৬০৫৪৯৪
- এস এম তানভীর সিদ্দিকি: ০১৩২৬৮০২৪৫৮
- মোঃ মেহেদী হাসান: ০১৬৭৬২২৭০১৯
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে মোঃ এনামুল করিমের নাম দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের ফোন নম্বর ০২-৯৯৬৯১৫১৭ এবং ই-মেইল controller@nu.ac.bd। নোটিশের স্মারক নম্বর জাতীঃবি/পনি/অনার্স পার্ট-৩/বিজ্ঞপ্তি/০২(অংশ-২)/২০২৩/২০২৫/২০৯৬ এবং তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর
অনার্স ৩য় বর্ষ ফরম ফিলাপ কবে শুরু?
২০২৫ সালের অনার্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম ফিলাপ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হবে। তবে শিক্ষার্থীরা ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
কলেজের ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়নের শেষ সময় কখন?
কলেজের ডাটা এন্ট্রি নিশ্চয়নের শেষ সময় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ১১:৫৯ মিনিট। সময় পার হলে অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
ফরম পূরণের ফি কোথায় জমা দিতে হবে?
নির্ধারিত পে-স্লিপ ব্যবহার করে সোনালী সেবার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ফি জমা দিতে হবে। অন্য ফরমে টাকা জমা দেওয়া যাবে না।
গ্রেড উন্নয়নে কতটি কোর্স নেওয়া যাবে?
২০২৪ সালের পরীক্ষায় C+, C বা D গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ দুটি কোর্সে গ্রেড উন্নয়নে অংশ নিতে পারবেন। তবে ফলাফল A- গ্রেডের বেশি হবে না।
একটি কোর্সে অনুপস্থিত হলে কী হবে?
একটি কোর্সে অনুপস্থিত থেকে অন্য সব কোর্সে D বা তার বেশি পেলে Conditional Promoted হওয়া যায়। ওই অনুপস্থিত কোর্সে পরবর্তী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
বিবরণী ফরম কোথায় জমা থাকবে?
বিবরণী ফরম ও অন্যান্য কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কলেজে ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। তাই আঞ্চলিক কেন্দ্রে জমা দেওয়ার দরকার নেই।
সময়সীমা মেনে আবেদন সম্পন্ন করুন
অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা-২০২৫ এর ফরম ফিলাপের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আবেদন, কলেজের নিশ্চয়ন এবং সোনালী ব্যাংকে ফি জমা—তিনটি ধাপই সম্পন্ন হতে হবে। তাই ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন শেষ করে কলেজে জমা দিন। এরপর ২৮ ও ৩০ সেপ্টেম্বরের সংশ্লিষ্ট সময়সীমাও মনে রাখুন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য www.nu.ac.bd-এ প্রকাশ করা হবে। চিঠি বা অন্য কোনো মাধ্যমে আলাদা তথ্য পাঠানো হবে না। সুতরাং আবেদন করার পরও নিয়মিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও কলেজের নোটিশ পর্যবেক্ষণ করুন।




