সেরা ১০

সেরা ১০ টি মিররলেস ক্যামেরা

হাই-কোয়ালিটির ছবি তোলার পাশাপাশি আকারে ছোট ও তুলনামূলক হালকা হওয়ার কারণে ডিজিটাল সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেক্স (ডিএসএলআর) ক্যামেরা বদলে মিররলেস ক্যামেরার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। 

ফলে ক্যামেরা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোও এসএলআর ক্যামেরার বদলে মিররলেস ক্যামেরা উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে।

পেশাদার ও শৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য উপযোগী এমন ১০টি মিররলেস ক্যামেরা নিয়ে আজকের আলোচনা-

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

অলিম্পাস ওএম-ডি ই-এম১০ মার্ক ফোর 

বৈশিষ্ট্য 
টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: মাইক্রো ফোর থার্ডস
মেগাপিক্সেলস: ২০.৩ লেন্স
মাউন্ট: এমএফটি
স্ক্রিন: ৩ ইঞ্চি ১৮০ ডিগ্রি টাচস্ক্রিন, ১০৩৭কে ডটস
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ, ২৩৬০কে ডটস
সর্বোচ্চ শুটিং স্পিড: ৮.৭এফপিএস ম্যাক্স
ভিডিও রেজুলেশন: ফের-কে
ব্যবহারযোগ্যতা: প্রারম্ভিক/মাঝিমাঝি মানের কাজের জন্য

সুবিধা: 
২০ মেগাপিক্সেল সেন্সর।
৫ এক্সিস ইন বডি স্টাবিলাইজার।

সীমাবদ্ধতা
এপিএস-সি ক্যামেরার তুলনায় ছোট সেন্সর।
প্লাস্টিকের বডি

এটি সাশ্রয়ী। যারা প্রাথমিকভাবে ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ করতে চান তাদের জন্য উপযোগী। ফ্লিপ-ডাউনের সুবিধা ছাড়াও মাল্টিটাচ স্ক্রিন মনিটর রয়েছে। ভিডিও কোয়ালিটি ফের-কে।

কিট লেন্স: এম জুইকো ১৪-৪২ এমএম ইজেড ‘প্যানকেক’ জুম।

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

ফুজিফিল্ম এক্স টি-৪ 

বৈশিষ্ট্য

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: এপিএস-সি
মেগাপিক্সেলস: ২৬.১এমপি লেন্স
মাউন্ট: ফুজিফিল্ম-এক্স
মাউন্ট মনিটর: ইভিএফ, ৩৬৯০কে ডটস, ১০০ শতাংশ কভারেজ
গতি: ১১এফপিএস
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ ম্যাক্স
ভিডিও রেজুলেশ: ফের-কে
লেভেল: শিক্ষানবিস/পেশাদার

সুবিধা

২৬.১ মেগাপিক্সেল সেন্সর
৬০এফপিএস গতিতে ফের-কে কোয়ালিটির ভিডিও
আইবিআইএস বা ইন-বডি স্ট্যাবিলাইজেশনের সুবিধা

সীমাবদ্ধতা

তুলনামূলক ব্যয়বহুল ,

যদিও বাজারে নতুন ভেঞ্চার হিসেবে এক্স-এইচএইচ-২এস এসেছে। তবে, এখনো এক্স-মাউন্ট ক্যামেরা পরিসরে এইটি (টি-৪) সেরা। কেন না, এর বৈচিত্র্যময় টাচস্ক্রিন সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া, শুটিংয়ে বার্স্ট মোড-এর ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সেটি বেশ দ্রুততর। ছবি তোলার জন্য এটি যথেষ্ট উপযোগী, তার সঙ্গে আছে ফের-কে কোয়ালিটির ভিডিও ধারণের সক্ষমতা।

কিট লেন্স: ফুজিনন এক্সএফ ১৮-৫০ মিলিমিটার অথবা এক্সএফ ১৬-৮০ মিলিমিটার।

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

নিকোন জেড-৯ 

বৈশিষ্ট্য

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: সিএমওএস
মেগাপিকক্সেলস: ৪৫.৭ মেগাপিক্সেলস
অটোফোকাস:  ৪৯৩ পয়েন্ট হাইব্রিড ফেজ/কনট্রাস্ট শণাক্তকরণ
স্ক্রিন টাইপ: ৩ ইঞ্চি দ্বি-নির্দেশক টাচস্ক্রিন, ১.০৪এম ডটস
শুটিং স্পিড: ২০এফপিএস
ভিডিও: এইট-কে
ব্যবহারযোগ্যতা: পেশাদার

সুবিধা

এইট-কে ৬০পি ভিডিও রেজুলেশন
১২০এফপিএস বার্স্ট শুটিং

সীমাবদ্ধতা 

স্ক্রিন পুরোপুরি সুগঠিত নয়।

ভিডিও ধারণের জন্য এই ক্যামেরাটি হতে পারে সবার সেরা। এইট-কে ৬০পি-এর ভিডিও ধারণ করা যাবে এই ক্যামেরার সাহায্যে। ১২০এফপিএস-এ নিরবচ্ছিন্নভাবে করা যাবে শুটিং। ৯ ধরনের শণাক্তকরণ ক্ষমতা আছে এর। যেমন- মানুষের চোখ, মুখ, মাথা, উর্ধাঙ্গ, প্রাণীর চোখ, মুখ, মাথা, উর্দ্বাঙ্গ, গাড়ি, ট্রেন, প্লেন বা মোটবাইকের মতো যানবাহন। এটি সনি এ ওয়ান কিংবা ক্যানন ইওএস আর-৩-এর চেয়ে সস্তা।

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

সনি এ ওয়ান

বৈশিষ্ট্য 

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: ফুল ফ্রেম
মেগাপিক্সেল: ৫০.১এমপি লেন্স
মাউন্ট: সনি এফই
স্ক্রিন: ৩ ইন-টিলটিং, ১.৪৪এম ডটস
ভিউফাইন্ডার: ইলেকট্রনিক, ৯.৪৪এম ডটস
বার্স্ট স্পিড (সর্বোচ্চ): ৩০এফপিএস
ভিডিও রেজুলেশন: এইট-কে
ব্যবহারযোগ্যতা: পেশাদার

সুবিধা 

৫০ মেগাপিক্সেল রেজুলেশন।
এইট-কে ভিডিও রেজুলেশন।
৩০এফপিএস-এ একটানা শুটিং করা সম্ভব।

সীমাবদ্ধতা 

অত্যধিক ব্যয়বহুল।

এখানে গতি, রেজুলেশন ও সক্ষমতার এক অপূর্ব সমন্বয় পাওয়া যাবে।

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

প্যানাসনিক লুমিক্স এস৫ 

বৈশিষ্ট্য 

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: ফুল ফ্রেম
মেগাপিক্সেল: ২৪.২এমপি লেন্স
মাউন্ট: এল মাউন্ট
মনিটর: ৩ ইঞ্চি ভ্যারি-অ্যাঙ্গেল টাচস্ক্রিন, ১.৮৪এম ডটস
শুটিং স্পিড: ৭এফপিএস (যান্ত্রিক শাটার), সিক্স-কে ফটো মোড (১৮ এমপি, ৩০ এফপিএস)
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ, ২.৩৬এম ডটস
সর্বোচ্চ ভিডিও রেজুলেশন: ৪-কে/৬০পি
ব্যবহারযোগ্যতা: শিক্ষানবিস/শৌখিন

সুবিধা

হালকা ও সুগঠিত
অতিরিক্ত প্রশস্ত ২০-৬০এমএম কিট লেন্স

সীমাবদ্ধতা

এএফ শুধু কনট্রাস্ট মোডে
ব্যয়বহুল

এই ক্যামেরার সুবিধা হলো হালকা ও সহজে বহনযোগ্য। এটি লুমিক্স এস১ কিংবা এসআর এর চেয়ে ওজনে ৩০০ গ্রাম কম।

কিট লেন্স: লুমিক্স ২০-৬০ এমএম

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

ফুজিফিল্ম এক্স-এস১০ 

বৈশিষ্ট্য

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: এপিএস-সি
মেগাপিক্সেলস: ২৬.১এমপি লেন্স
মাউন্ট: ফুজিফিল্ম এক্স
স্ক্রিন: ৩ ইঞ্চি ভ্যারি-অ্যাঙ্গেল টাচস্ক্রিন, ১.০৪এম ডটস
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ, ২৩৬০কে ডটস
কন্টিনিউয়াস শুটিং স্পিড: ৩০/৮এফপিএস
সর্বোচ্চ ভিডিও রেজুলেশন: এইট-কে
ব্যবহারযোগ্যতা: মাঝারি মানের /পেশাদার

সুবিধা 

আকারে ছোট, নির্মাণের ধরণ চমৎকার।
টাচস্ক্রিনের বৈচিত্র্য ও ইন-বডি ইমেজ স্ট্যাবিলাইজার।

সীমাবদ্ধতা:

মোড ডায়াল প্রথাগত

যারা শিক্ষানবিস বা ধাপে ধাপে দক্ষ হয়ে উঠতে চান, তাদের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে ভালো ক্যামেরা। আইবিআইএস সুবিধা থাকায় ও সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় কাজে সুবিধাজনক।

কিট লেন্স:
ফুজিনন এক্সএফ ১৮-৫৫এমএম
ফুজিনন এক্স-এফ ১৬-৮০এমএম

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

নিকন জেড এফসি

বৈশিষ্ট্য

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: এপিএস-সি সিএমওএস
মেগাপিক্সেল: ২০.৯এমপি
মনিটর: ৩.২ ইঞ্চি টিলটিং, ১.০৪এম ডটস
একটানা শুটিং সক্ষমতা: ১১এফপিএস
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ, ২.৩৬এম ডটস
সর্বোচ্চ রেজুলেশন: ফোর-কে ইউএইচডি (৩০পি)
ব্যবহারযোগ্যতা: প্রারম্ভিক/শৌখিন

সুবিধা

চমৎকার লুক
কনট্রাস্টগুলো ডায়ালভিত্তিক।

সীমাবদ্ধতা

 একই সুবিধার জেড-৫০ কম মূল্যের।
ডিএক্স-জেড মাউন্ট লেন্সের সংখ্যা কম।

এটির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর রেট্রো-স্টাইলে। সাবেকি ধরনের লুকে আকৃষ্ট হয়ে অনেকে কিনে ফেলতে পারেন। তবে সে তুলনায় সুবিধা একটু অপ্রতুল।

কিট লেন্স: নিক্কর জেড-ডিএক্স ১৬-৫০এমএম

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

নিকন জেড-৫ 

বৈশিষ্ট্য 

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: ফুল ফ্রেম সিএমওএস
মেগাপিক্সেল: ২৪.৩এমপি লেন্স
মাউন্ট: নিকন জেড
মনিটর: ৩.২ ইঞ্চি টিলটিং টাচস্ক্রিন, ১০৪০কে ডটস
কন্টিনিউয়াস শুটিং স্পিড: ৪.৫এফপিএস
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ, ৩৬৯০কে ডটস, ১০০ শতাংশ কভারেজ ০.৮ গুণ ম্যাগনিফিকেশন
ভিডিও রেজুলেশন: ফোর-কে ইউএইচডি (৩০পি)
ব্যবহারযোগ্যতা: উৎসাহী/শৌখিন

আরও দেখুনঃ কম দামে সেরা ১০ টি প্রিন্টার

সুবিধা 

ফুল ফ্রেম ক্যামেরা হিসেবে আনুপাতিকভাবে স্বল্পমূল্য।
ডাবল কার্ড স্লট।

সীমাবদ্ধতা 

এফপিএস বার্স্ট মাত্র ৪.৫এফপিএস।
ফোর-কে ভিডিও ক্রপড

এটি মূলত যারা প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শিখতে চান তাদের জন্য উপযোগী। তবে পেশাগত কাজের জন্য তেমন সুপারিশযোগ্য নয়।

কিট লেন্স: নিক্কর জেড ২৪-৫০ মিলিমিটার, নিক্কর জেড ২৪-৭০ মিলিমিটার এফ/৪

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

প্যানাসনিক লুমিক্স জি-১০০ 

বৈশিষ্ট্য 

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: মাইক্রো ফোর থার্ডস
মেগাপিক্সেল: ২০.৩এমপি লেন্স
মাউন্ট: এমএফটি
স্ক্রিন: ৩ ইঞ্চি, ভ্যারি অ্যাঙ্গেল, ১৮৪০ কে ডটস
ভিউফাইন্ডার: ইভিএফ, ৩.৬৯এম ডটস
সর্বোচ্চ শুটিং স্পিড: ১০এফপিএস
ভিডিও রেজুলেশন: ফোর-কে ইউএইচডি
ব্যবহারযোগতা: প্রারম্ভিক/উৎসাহী

সুবিধা 

ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মান ভালো।
অডিও রেকর্ডিংয়ের সক্ষমতা ভালো।
ইভিএফ উজ্জ্বল ও এলসিডি সুগঠিত।

সীমাবদ্ধতা 

ইন বডি স্ট্যাবিলাইজিং-এর সুবিধা নেই।
কোন হেডফোন জ্যাক বা ইউএসবি সুবিধা নেই।

যারা ভ্রমণ বিষয়ক ছবি-ভিডিও, ভ্লগিং করে থাকেন কিংবা কেবল শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য এটি বেশ উপযোগী হতে পারে।

কিট লেন্স: লুমিক্স-জি ১২-৩২ মিলিমিটার ‘প্যানকেক’ জুম

ছবি: ডিজিটাল ক্যামেরাওয়ার্ল্ড.কম

ক্যানন ইওএস আর৫ 

বৈশিষ্ট্য

টাইপ: মিররলেস
সেন্সর: ফুল ফ্রেম
মেগাপিক্সেল: ৪৫এমপি
লেন্স মাউন্ট: ক্যানোন আরএফ
মনিটর: ৩.১৫ ইঞ্চি, ভ্যারি-অ্যাঙ্গেল টাচস্ক্রিন, ২১০০কে ডটস
ভিউফাইন্ডার: ওএলইডি ইভিএফ, ৫৬৯০কে ডটস, ১০০ পার্সেন্ট কভারেজ, ০.৭৬ গুণ ম্যাগনিফিকেশন
কন্টিনিউয়াস শুটিং স্পিড: ১২এফপিএস (যান্ত্রিক শাটার), ২০এফপিএস (ইলেকট্রনিকস)
ভিডিও রেজুলেশন: ৮-কে
ব্যবহারযোগ্যতা: পেশাদার

সুবিধা

এই মূল্যের ভেতর সেরা এএফ
ফুল ফ্রেম ক্যামেরাগুলোর ভেতর সেরা আইবিআইএস প্রযুক্তি
এইট-কে কোয়ালিটির ভিডিও

সীমাবদ্ধতা 

একটানা ভিডিও রেকর্ডিং এর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড ফোর-কে ভিডিওর জন্য অত স্বাচ্ছন্দ্যময় না।

এটি ভিডিও শুট করার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। তবে, ছবি তোলার জন্য অন্যতম সেরা ক্যামেরা। এর ভেতর ইওএস আর-এর গঠন, ইওএস ৫এ-এর কার্যপ্রণালি ও ইওএস-আইডিএক্স-এর পেশাদারিমানের অটো ফোকাস আছে। মূলত স্থিরচিত্র তোলা ও বেসিক ভিডিও ধারণের জন্য সেরা ক্যানন ক্যামেরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!