প্রযুক্তির খবর

Artificial intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

আজকাল ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শব্দটি কারও কাছেই অচেনা শব্দ হওয়ার কথা না। বর্তমান আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সময়ে নানা ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হচ্ছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান-কম্পানিত বা ওনলালাইনে এসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে অনেক কাজ সক্রিয় ভাবে করে নেয়। ইদানিং যারা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত তারা প্রায় প্রত্যেকেই এই বুদ্ধিমত্তার সাথে কমবেশি পরিচিত। আপনিও হয়তো এ সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন। যদি এ সম্পর্কে আপনি না জেনে থাকেন বা কোন ধারনাই না থাকে তবে চিন্তার কিছু নেই। এই আর্টিক্যালটি পড়ে আপনি মুটামুটি ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে ভালো একটি ধারণা পাবেন। এতক্ষনে হয়তো বুঝতেই পেরেছেন আজকের আলোচনার টপিক কি হতে চলেছে। হ্যা, আজ আমরা Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচিত হবো। চলুন তাহলে প্রথমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলতে বোঝায় কি সে সম্পর্কে আলাপ করা যাক,

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো মেশিন দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি। মানুষের ন্যায় বুদ্ধিমত্তা, চিন্তাধারা বা মেধা শক্তিকে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে ব্যবহার উপযোগী করাই হলো Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সংক্ষেপে AI। এটি কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ শাখাও বটে, তবে এখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা, চিন্তাধারা বা মেধা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকরণ করার চেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ যেসব কম্পিউটার প্রোগ্রাম মানুষের মতো সক্রিয় বুদ্ধি ও ক্রিয়া কলাপ কে অনুকরণ করে বা সম্পাদন করে সেসব কম্পিউটার প্রোগ্রামকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। সহজ ভাষায় যখন কোন কম্পিউটার প্রোগ্রাম ঠিক মানুষের মতো বুঝতে, চিন্তা করতে বা সমস্যার সমাধান করতে পারে তখন আমরা তাকে Artificial Intelligence বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক  ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ অ্যালান টুরিং (Alan Mathison Turing) ।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ক্ষেত্র দুইটি, একটি হচ্ছে এক্সপার্ট সিস্টেম ও অন্যটি রোবটিকস। এই দুই ক্ষেত্রেই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রগ্রামিং ভাষা ব্যবহার করা হয়। যেমন—LISP, CLISP, C/C++, JAVA ইত্যাদি ।

এক্সপার্ট সিস্টেম হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এমন একটি সিস্টেম, যা মানুষের চিন্তাভাবনা করার দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে একত্রে ধারণ করেতে পারে। এটি মানব মস্তিষ্কের ন্যায় পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সাপেক্ষ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এই সিস্টেমে বিশাল একটা  তথ্যভাণ্ডার থাকে, যাকে নলেজবেজ বলা হয়। এবার আমরা এক্সপার্ট সিস্টেমের ব্যবহার সম্পর্কে জানব।

এক্সপার্ট সিস্টেমের ব্যবহারঃ

১।  বিমান শিডিউল তৈরি ও বিমান চালনায় পরিকল্পনাতে,

২।ভূগর্ভস্থ তেল অনুসন্ধানে, যেমন, Prospector : খনিজ পদার্থ ও আকরিক অনুসন্ধান করা।

৩। চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীর রোগ নিরাময়ে,

৪। চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান এবং নির্ভুলভাবে জটিল রোগের সার্জারি করার ক্ষেত্রে, যেমনঃInternist

৫।চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা ক্ষেত্রে, যেমনঃ Mycin and Cadulus,

৬। বিভিন্ন ডিজাইনের ভুল সংশোধনে,

৭। প্রগ্রামিং শেখানোর ক্ষেত্রে, যেমন, Dendral।

এবার রোবটিকস সম্পর্কে জানা যাক। রোবটিকস বলা হয় সেই শাখাকে, যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার করে রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কারোর নির্দেশে কাজ করতে পারে তাকে রোবট। এটিও তৈরি হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো করেই । এটি নিয়ন্ত্রিত হয় Computer program ev Electronic circuitry দ্বারা যার ফলে এটি মানুষ কিংবা বিভিন্ন বুদ্ধিমান প্রাণীর মতো করে কাজ করতে পারে । এর কার্যপদ্ধতি আধা স্বয়ংক্রিয় বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ভাবে হয়ে থাকে । অর্থাৎ এটি সনিয়ন্ত্রিতও হতে পারে কিংবা  মানুষ ও মেশিন উভয় কর্তৃক পরিচালিতও হতে পারে। একটি সাধারণ রোবটে নানান উপাদান বা অংশ থাকে। সেগুলো হলো,

  • প্রসেসর – রোবটের মূল অংশ হলো প্রসেসর। প্রসেসরে রোবটকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রগ্রাম জুড়ে দেওয়া থাকে। রোবটের সকল কর্মকাণ্ড এটিই নিয়ন্ত্রণ করে।
  • পাওয়ার সিস্টেম – রোবটের পাওয়ার সিস্টেমে রিচার্জেবল ব্যাটারি তথা লেড এসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।
  • ইলেকট্রিক সার্কিট – রোবটের হাইড্রোলিক ও নিউমেট্রিক সিস্টেমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।
  • অ্যাকচুয়েটর – রোবটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মুভ করা জন্য অ্যাকচুয়েট ব্যবহার করা হয় যা বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয়ে তৈরি।
  • সেন্সর – রোবটের পরিবেশ থেকে ইনপুট নেওয়ার যন্ত্রটির নাম হলো সেন্সর।
  • ম্যানিপুলেশন – রোবটের আশপাশের বস্তুগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করার পদ্ধতিকে বলা হয় ম্যানিপুলেশন ।
  • মুভেবল বডি – রোবটের চাকা, যান্ত্রিক পা এবং স্থানান্তর করা যায় এমন যন্ত্রপাতি।

রোবটের ব্যবহার

১। কম্পিউটার-এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে রোবটকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়, বিশেষত যানবাহন ও গাড়ি তৈরির কারখানায় রোবটকে ব্যবহার করা হয়।

২। মানুষের জন্য বিপজ্জনক কাজ যেমন—বিস্ফোরক নিষ্ক্রীয়করণ, ডুবে যাওয়া জাহাজ অনুসন্ধান, খনির অভ্যন্তরের কাজ ইত্যাদি কঠোর পরিশ্রমের কাজ রোবটের সাহায্যে করা হয়।

৩। কারখানায় কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত শ্রমসাধ্য কাজ যেমন— ভারী মাল ওঠা-নামার ক্ষেত্রে রোবটিক ডিভাইস ব্যবহৃত হয়।

৪। বোমা অনুসন্ধান কিংবা ভূমি মাইন শনাক্ত করায় ইত্যাদি সামরিক ক্ষেত্রেও বর্তমানে রোবটের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হচ্ছে ।

৫।সার্জনদের জটিল অপারেশনে ও নানাবিধ চিকিৎসা ক্ষেত্রেও রোবটের ব্যবহার করা হচ্ছে।

৬।রোবটের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও।মানুষের পরিবর্তে এখন বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সংবলিত রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে মহাকাশ অভিযানে ।

যেসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয় তার অধিকাংশই ইন্টারনেট ভিত্তিক।  সাইবার নিরাপত্তা, ওয়েব সাইট ডিজাইন, ব্যাংকিং এর ক্ষেত্রে, স্মার্ট গাড়িতে, ভিডিও গেমস,ডেটা সেন্টার ম্যানেজমেন্টে্‌, জিনোমিক্স / সিকোয়েন্সিং / ড্রাগ আবিষ্কার/ বিনোদনের ক্ষেত্রে ইত্যাদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহৃত ইন্টারনেট ভিত্তিক কাজ। বড় বড় ওয়েবসাইট (Facebook) বা সার্চ ইঞ্জিনে (Google) এসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চিকিৎসা, গবেশনা, নিরাপত্তা, তদারকি ইত্যাদি ক্ষেত্রে এসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নানা ধরণের কাজে ভুমিকা রাখে।এমন কি আপনার মেল স্প্যাম ফিল্টার করতেও এটি কাজ করে। এছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্রেই এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্রার উপকারিতা ও অপকারিতাঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা আছে। এক্ষেত্রে সুবিধা বা উপকারিতা গুলো হলো,

  • ভুল-ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
  • AI ব্যবহার করে জালিয়াতি সনাক্তকরণ।
  • রোবোটিকস পোষা প্রাণী গুলো বিনদনের মাধ্যমে ডিপ্রেসনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিছুটা সুস্থ রাখতে পারে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা।
  • কোনো প্রকার বিরতি ছাড়াই সম্পন্ন কাজ সমাপ্তকরণ।
  • দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
  • দ্রুততার সাথে কাজ করার ক্ষমতা।
  • যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে পারা এবং যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে যেমন কিছু সুবিধা আছে ঠিক তেমনি কিছু  অসুবিধাও আছে।  যা লক্ষ্য করার মতো। এক্ষেত্রে অসুবিধা বা অপকারিতা গুলো হলো,

  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল পরিমানে ব্যয়বহুল।
  •  এটি ব্যবহারে বেকারত্বের হার বাড়ছে।
  • Artificial Intelligence এর উপর মানুষ অধিক নির্ভরশীল হয়ে উঠছে যার ফলে মানুষের সক্ষমতা হ্রাস পাছে।
  • এটি মানুষের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে যখন এটির প্রোগ্রামিং ভুল বা অন্যান্য ত্রুটির দেখা দেবে।
  • Artificial Intelligence মেশিনগুলি নির্দিষ্ট কিছু স্ক্রিপ্ট ভিত্তিক অর্থাৎ প্রোগ্রামিং কোড ব্যাতীত অন্য কিছু করতে পারে না।
  • কাজগুলি আরও উন্নত করতে পারে যদি কোডিং করা থাকে তবে এটি নিঃসন্দেহে মানুষের মতো কখনই করতে পারে না।
  • এটি মানুষকে প্রডাক্ট বা পণ্য হিসাবে বিবেচনা করে।
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার না করলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হতে পারে।

বর্তমান সময়ে আমরা যদিও Artificial Intelligence থেকে অনেক সুযোক-সুবিধা পাচ্ছি। তবুও এটির ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি্র কারন হয়ে উঠতে পারে।তাই আমাদের AI ব্যবহারে সর্তক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন RAM কী ? এর প্রকারভেদ, এটির কাজ কি?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!