অনলাইনে নিরাপদ থাকুন: বাংলাদেশে সাইবার সিকিউরিটি টিপস
প্রযুক্তির এ যুগে স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ছাড়া দিন পার করা কঠিনই বটে। করোনাকালের পর ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেড়েছে। বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে ইন্টারনেট। তবে এই ডিজিটাল সুবিধার পাশাপাশি বেড়েছে সাইবার হুমকিও। বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজারো মানুষ অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, এবং ডেটা চুরির শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন না হলে আপনিও এসব সাইবার হামলার কবলে পড়তে পারেন।
এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কীভাবে অনলাইনে নিরাপদ থাকবেন, কোন কোন হুমকি থেকে সাবধান থাকতে হবে এবং কীভাবে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলো।
সাইবার সিকিউরিটি কী এবং বাংলাদেশে এর গুরুত্ব
সাইবার সিকিউরিটি হলো অনলাইনে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ডিভাইস এবং নেটওয়ার্ককে অননুমোদিত প্রবেশ, ক্ষতি বা চুরি থেকে রক্ষা করার প্রক্রিয়া। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি হলো ডিজিটাল জগতে আপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, অনলাইন লটারি স্ক্যাম এসব ঘটনা এখন নিত্যদিনের বিষয়। শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীই নয়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে।
২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ফিশিং ইমেইলের সংখ্যা ৩৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এআই প্রযুক্তি এই সংখ্যা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় কোম্পানি সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে জানা এবং সতর্ক থাকা এখন প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। আপনার ছোট্ট একটি অসাবধানতা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে, আপনার পরিচয় চুরি হতে পারে, অথবা আপনার ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। তাই সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি ও দুই-ধাপ যাচাইকরণ (2FA)
পাসওয়ার্ড হলো আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্টের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে হ্যাকারদের জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরির নিয়ম
একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডে থাকা উচিত ১২ বা তার বেশি অক্ষর, যেখানে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন ($, @, #, !) এর মিশ্রণ থাকবে। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, নিজের মা-বাবা বা প্রিয়জনের নাম, জন্মতারিখ, বাসার ঠিকানা বা এলাকার নাম মানুষ পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এগুলো একদম এড়িয়ে চলতে হবে।
পাসওয়ার্ডে এমন কোনো শব্দ বা সংখ্যা ব্যবহার করা উচিত নয়, যেটা সহজেই অন্য কেউ অনুমান করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, “password123”, “123456”, বা “Dhaka2024” ধরনের পাসওয়ার্ড অত্যন্ত দুর্বল। এর পরিবর্তে “T!g3r$Fly@2024” ধরনের জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। যদি আপনি সব জায়গায় একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, তাহলে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে আপনার সব অ্যাকাউন্টই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।
পাসওয়ার্ড মনে রাখতে সমস্যা হলে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনার সব পাসওয়ার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করে দেয়।
দুই-ধাপ যাচাইকরণ সক্রিয় করুন
টু স্টেপ বা দুই ধাপে লগইন পদ্ধতি বেছে নিয়ে আরও নিরাপদে অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যায়। এটি আপনার অ্যাকাউন্টে একটি অতিরিক্ত সুরক্ষা স্তর যোগ করে।
দুই-ধাপ যাচাইকরণ সক্রিয় থাকলে, ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর আপনার মোবাইলে একটি সাংকেতিক কোড (OTP) আসবে। এই কোড প্রবেশ করা হলেই কেবল লগইন সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার ফোন ছাড়া লগইন করতে পারবে না।
ফেসবুক, জিমেইল, ব্যাংকিং অ্যাপসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সেবায় এখন দুই-ধাপ যাচাইকরণের সুবিধা রয়েছে। এটি সক্রিয় করা খুবই সহজ এবং কয়েক মিনিটের কাজ। প্রত্যেকেরই উচিত নিজের সব অ্যাকাউন্টে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা।
ফিশিং লিঙ্ক ও অনলাইন জালিয়াতি চেনার উপায়
ফিশিং হলো এমন একটি প্রতারণা পদ্ধতি যেখানে হ্যাকাররা নিজেদেরকে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি হিসেবে জাহির করে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার চেষ্টা করে। এটি সাধারণত ইমেইল, এসএমএস, বা সোশ্যাল মিডিয়া মেসেজের মাধ্যমে ঘটে।
ফিশিং লিঙ্ক চেনার লক্ষণ
জরুরি বা হুমকিমূলক ভাষা ফিশিং আক্রমণের একটি সাধারণ কৌশল। যেমন “আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে”, “অবিলম্বে পদক্ষেপ নিন” ধরনের বার্তা দেখলে সতর্ক হতে হবে।
অজানা প্রেরক থেকে আসা মেসেজ বা ইমেইলে বিশেষ সতর্ক থাকুন। প্রেরকের ইমেইল ঠিকানা ভালোভাবে দেখুন প্রায়ই ভুয়া ইমেইলে কোম্পানির নামে ছোটখাটো বানান ভুল বা সন্দেহজনক ডোমেইন থাকে।
সন্দেহজনক লিংকে কখনোই ক্লিক করবেন না। লিংকের ওপর মাউস রাখলে (ক্লিক না করে) আসল ঠিকানা দেখা যায়। যদি দেখেন লিংকের নাম একরকম কিন্তু আসল ঠিকানা অন্যরকম, তাহলে বুঝবেন এটি ফিশিং।
বাংলাদেশে প্রচলিত স্ক্যাম
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় লটারি বা পুরস্কার জালিয়াতি। “অভিনন্দন! আপনি ১০ লক্ষ টাকা জিতেছেন” ধরনের মেসেজ পেলে কখনো বিশ্বাস করবেন না। কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়ে পুরস্কার পাওয়া সম্ভব নয়।
বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকের নামে ফোন কল বা মেসেজ এসে OTP বা PIN চাইলে কখনোই দেবেন না। মনে রাখবেন, কোনো ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি কখনো ফোন করে আপনার পাসওয়ার্ড, PIN বা OTP জানতে চাইবে না।
ফেসবুকে বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার বা প্রতিযোগিতার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অনেক সময় গেম বা কুইজ খেলার নাম করে আপনার প্রোফাইলের তথ্য নিয়ে নেওয়া হয়। এসব থেকে দূরে থাকুন।
একটি মূল নিয়ম সবসময় মনে রাখবেন: কখনো কোনো প্রয়োজন বা প্রলোভনে পড়ে কাউকে আপনার পাসওয়ার্ড, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, OTP বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য জানাবেন না। সন্দেহ হলে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করুন।

সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার টিপস
আমাদের দৈনন্দিন ইন্টারনেট ব্যবহারের একটি বড় অংশজুড়েই রয়েছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এসব সাইটে নিরাপদ থাকার কৌশলগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাইভেসি সেটিংস সঠিকভাবে কনফিগার করুন
ফেসবুক প্রোফাইল থেকে দেওয়া তথ্যগুলো কারা দেখতে পারবে, ফেসবুক সার্চ অপশনে নাম বা কোনো তথ্য দেখা যাবে কি না, কেউ বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠাতে পারবে কি না এসব প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
পাশাপাশি প্রতিটি পোস্ট করার আগে সেটি কারা দেখতে পারবে তা নির্বাচন করতে হবে। এতে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিরা আপনার তথ্য ও ছবি দেখতে পারবে না। ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্টটি প্রাইভেট করে রাখলে শুধুমাত্র আপনার অনুসারীরাই আপনার পোস্ট দেখতে পারবে।
বন্ধু তালিকা যাচাই করুন
ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যাঁরা আছেন, তাঁদের সবাইকে কি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন? একেবারেই অপরিচিত কেউ আছে কি না, সেটা যাচাই করা প্রয়োজন। নতুন বন্ধু বানানোর আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তির প্রোফাইল দেখে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা উচিত।
প্রোফাইলের ছবি এবং অন্যান্য তথ্য দেখে যদি নির্ভরযোগ্য মনে হয়, তবেই তাকে বন্ধু তালিকায় জায়গা দেওয়া উচিত। অনেক সময় ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়।
তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ থেকে সাবধান
ফেসবুকে “কে আপনাকে ভালোবাসে”, “ভবিষ্যতে আপনি কোন পেশায় যাবেন” ইত্যাদিসহ নানা ধরনের মজার কুইজ বা গেম দেখা যায়। এগুলো ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এসব গেম খেলার সময় আপনার প্রোফাইলের তথ্যগুলো সেই গেম বা কুইজ নির্মাতারা নিয়ে নেয়।
Location Sharing বন্ধ রাখুন
নির্দিষ্ট অ্যাপে প্রয়োজনের সময় ছাড়া ফোনের Location Sharing সুবিধাটি বন্ধ রাখতে হবে। এটি চালু থাকলে অন্যরা জানতে পারবে আপনি কখন কোন এলাকায় থাকছেন, যা আপনার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ফেসবুকের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কোনগুলো কেন প্রয়োজন, তা নিয়মিত https://facebook.com/privacy/checkup পেজ থেকে যাচাই করা ভালো। এই পেজ থেকে নিজের প্রোফাইলের নিরাপত্তার অবস্থা দেখা যায়।

নিরাপদ অনলাইন ব্যাংকিং ও লেনদেনের নিয়ম
ডিজিটাল লেনদেন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
শুধুমাত্র অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন
সবসময় ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ব্যাংকিং অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। অবিশ্বস্ত সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস আসার সম্ভাবনা থাকে।
পাবলিক WiFi-তে ব্যাংকিং এড়িয়ে চলুন
রেস্তোরাঁ, কফি শপ বা হোটেলের পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কখনো ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন করবেন না। এসব নেটওয়ার্ক অনিরাপদ এবং হ্যাকাররা সহজেই আপনার তথ্য চুরি করতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে নিজের মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন।
মোবাইল ব্যাংকিং নিরাপত্তা
বিকাশ, নগদ, রকেট ব্যবহার করার সময় বেশ কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। PIN নিয়মিত পরিবর্তন করুন এবং সহজ সংখ্যা (১২৩৪, জন্মতারিখ ইত্যাদি) ব্যবহার করবেন না। OTP কোড কখনো কাউকে জানাবেন না, এমনকি যদি কেউ বিকাশ বা নগদের কর্মকর্তা বলে দাবি করে।
লেনদেন শেষে অবশ্যই কনফার্মেশন মেসেজ চেক করুন এবং নিয়মিত আপনার লেনদেনের ইতিহাস পর্যালোচনা করুন। কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন দেখলে অবিলম্বে কাস্টমার সার্ভিসে জানান।
অনলাইন কেনাকাটায় সতর্কতা
অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করুন। ওয়েবসাইটের URL যাচাই করুন নিরাপদ সাইটের ঠিকানা https:// দিয়ে শুরু হয় এবং ব্রাউজারে একটি তালা চিহ্ন দেখা যায়। অপরিচিত বা সন্দেহজনক সাইটে কার্ডের তথ্য দেবেন না।
ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করলে, প্রতিটি লেনদেনের পর SMS alert চেক করুন। নিয়মিত ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করুন এবং কোনো অজানা লেনদেন দেখলে তৎক্ষণাৎ ব্যাংককে জানান।
ডিভাইস সুরক্ষা ও পাবলিক WiFi ব্যবহারে সতর্কতা
ডিভাইস সুরক্ষা বজায় রাখা সাইবার নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ধাপ। তাই প্রথমেই আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে নির্ভরযোগ্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করা জরুরি। এটি ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যারসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার আক্রমণ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি সিস্টেম ও অ্যাপগুলো নিয়মিত আপডেট করলে সিকিউরিটি প্যাচ সক্রিয় থাকে, যা নতুন ধরনের হুমকি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনেকে অজান্তেই অবিশ্বস্ত সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করেন, যা ডিভাইসকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই সবসময় অফিসিয়াল স্টোর (Play Store, App Store) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। মোবাইল সুরক্ষায় স্ক্রিন লক, পিন, প্যাটার্ন বা বায়োমেট্রিক ব্যবহার করা উচিত, যাতে ফোন হারিয়ে গেলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে।
পাবলিক WiFi অনেক সময়ই এনক্রিপশনহীন থাকে, যা আপনার ডেটা সহজেই হ্যাকারদের কাছে উন্মুক্ত করতে পারে। তাই সম্ভব হলে পাবলিক WiFi ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনে VPN ব্যবহার করুন। নিরাপদ VPN আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করে, বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং বা লগইন করার সময়।
এছাড়া নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ রাখা এবং ডিভাইস হারানো বা চুরি হলে রিমোট ওয়াইপ সুবিধা সক্রিয় থাকা আপনার তথ্যকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার ক্রাইমে করণীয়
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজকের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রথমেই তাদের ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সক্রিয় করুন, যাতে তারা শুধুমাত্র বয়স-উপযুক্ত কন্টেন্ট অ্যাক্সেস করতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের সাইবার বুলিং সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি কেউ আঘাতমূলক মন্তব্য করলেই যেন তারা অভিভাবককে জানায়।
অনলাইনে অপরিচিতদের সঙ্গে কথা না বলা, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এসব অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের সাথে খোলামেলা আলোচনা তৈরি করলে তারা অনলাইনে ভুল কিছু দেখলে বা ভয়ের পরিস্থিতিতে পড়লে সহজেই আপনার সাথে কথা বলতে পারবে।
যদি কোনোভাবে আপনার সন্তান বা আপনি সাইবার ক্রাইমের শিকার হন, তাহলে অবিলম্বে সব লগইন সম্পর্কিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে (Facebook, Google, Instagram) রিপোর্ট দিন। প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট, মেসেজ, ইমেইল সংরক্ষণ করুন। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট (০২-৯৩৩৩৩৯০)। যদি আর্থিক কোনো তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সাপোর্টে জানান।
Conclusion
সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন থাকা আজ আর বিলাসিতা নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। ডিভাইস সুরক্ষা, সঠিক ব্যবহার অভ্যাস, নিরাপদ ব্রাউজিং এবং শিশুদের অনলাইন সচেতনতা সব মিলেই আমরা আমাদের ডিজিটাল জীবনকে নিরাপদ রাখতে পারি। মনে রাখতে হবে, সচেতনতাই হলো সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
সাইবার হুমকি যেমন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও নিজেদের নিয়মিত আপডেট রাখা জরুরি। প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করছে, তবে সঠিক সাবধানতা না নিলে ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলো শেয়ার করুন, যাতে সবাই মিলে একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
👉 পড়ে দেখুন: সাইবার সিকিউরিটিতে এথিক্যাল হ্যাকিং
FAQ Questions
সাইবার সিকিউরিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশে?
বাংলাদেশে প্রতিদিন অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, ফিশিং ইমেইল ও মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি ঘটছে। সাইবার সিকিউরিটি আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডিভাইসকে অননুমোদিত প্রবেশ বা চুরি থেকে রক্ষা করে। তাই সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং দুই-ধাপ যাচাইকরণ কিভাবে সাহায্য করে?
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশকে কঠিন করে তোলে। দুই-ধাপ যাচাইকরণ (2FA) সক্রিয় করলে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড জানালেও কেউ আপনার ফোন বা OTP ছাড়া লগইন করতে পারবে না, যা অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করে।
ফিশিং লিঙ্ক বা অনলাইন জালিয়াতি থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়?
অজানা প্রেরকের মেসেজ বা ইমেইল এড়িয়ে চলা, সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা, এবং ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং OTP কাউকে না দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাংলাদেশে লটারি বা পুরস্কার জালিয়াতি এবং ফেসবুক প্রলোভনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঘটনা বেশি ঘটে।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেয়া উচিত?
শিশুদের ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সক্রিয় রাখা, বয়স-উপযুক্ত কন্টেন্ট দেখানো, সাইবার বুলিং ও অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়ানো শেখানো প্রয়োজন। এছাড়া শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি, যাতে তারা অনলাইনে সমস্যায় পড়লে সহজেই জানাতে পারে।




