কম্পিউটার টিপস

কম্পিউটার কেন হ্যাং করে, কিভাবে প্রতিকার করবেন ?

যত দিন যাচ্ছে আমরা ততোই ইন্টারনেট তথা কম্পিউটার নির্ভর হয়ে উঠছি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা কম্পিউটার নিয়ে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হয়ে থাকি। তার মধ্যে একটি কম্পিউটার হ্যাং করা। এই রকম অনেক সময়ই হয়ে থাকে যখন আমরা কম্পিউটারে কোন গুরুত্বপুর্ণ কাজ করছি তখন হঠাৎ করে কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যায়। তখন কম্পিউটার আর কোন কাজই করে না। এমতাবস্থায় আমরা যদি কিছু কৌশল অবলম্বন করি তবে এই সমস্যা থেকে কাটিয়ে উঠতে পারব। আজকে এই বিষয়ে আমরা বিস্তারিত ভাবে জানব।

বিভিন্ন কারণে কম্পিউটারের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে বা কম্পিউটার কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তখন কম্পিউটার কোন কমান্ড গ্রহণ করে না এমন কি রেসপন্সও করে না। কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা কমবেশি সবাই এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে। এই অবস্থাকে আমরা হ্যাং বা ফ্রিজ বলে থাকি। কম্পিউটার হ্যাং করার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তো প্রথমেই কারণ গুলো জানা যাক,

নানান সমস্যার কারণে কম্পিউটার হ্যাং করতে পারে। তবে প্রধান কারণ গুলো হলোঃ

  • র‍্যামে অতিরিক্ত চাপ পরলে।
  • কম্পিউটার Local disk-এ পর্যাপ্ত পরিমাণ স্পেস না রাখলে।
  • একাধিক প্রোগ্রাম একসাথে চালু করলে।
  • দূর্বল বা নিম্ন মানের প্রসেসর ব্যবহার করলে।
  • প্রসেসর গরম হয়ে গেলে।
  • অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্সটল করে রাখলে।
  • ভাইরাস থাকলে বা সংক্রমন করলে।
  • অপারেটিং সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার Update না করলে।
  • অপারেটিং সিস্টেম ফাইল ডিলিট হয়ে গেলে।
  • কম্পিউটারের ধারন ক্ষমতার চেয়ে অধিক গ্রাফিক্স সম্পন্ন কম্পিউটার গেম ও সফটওয়্যার চালালে।
  • কম্পিউটারে ভাড়ি এপ্লিকেশন চালালে।
  • কম্পিউটার দীর্ঘ সময় ধরে Restart বা Reboot ছাড়াই চালালে।
  • কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ও অন্যান্য হার্ডওয়্যারের সংযোগ ত্রুটি থাকলে ইত্যাদি।
  • মাত্রারিক্ত কমান্ড করা।
  • ব্রাউজার ভারী হয়ে থাকলে।

এগুলো কারনেই মুলত কম্পিউটার হ্যাং করে থাকে। এটি থেকে পরিত্রাণের কিছু নিয়ম রয়েছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

কম্পিউটার হ্যাং করলে করণীয়

কম্পিউটারে কাজ করার সময় যদি কখনো হ্যাং করে তবে আমরা তৎক্ষণাত PC রিস্টার্ট দিই। আমরা মনে করি এতে করে কম্পিউটার দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। এতে তাৎক্ষনিক ভাবে কম্পিউটার ঠিক হয়ে যায় কিন্তু এই কাজ করা মোটেও উচিত নয়। কেননা হ্যাং করার পরপরই কম্পিউটার রিস্টার্ট দেওয়ার ফলে  কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে প্রচন্ড ভাবে প্রেসার পড়ে। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, যেমন- প্রসেসর, হার্ডডিস্ক, র‌্যাম ইত্যাদির উপরও চাপ পড়ে। যার কারণে দেখা যায় PC-র বিভিন্ন হার্ডওয়্যারের ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে।

কম্পিউটারের কোন কারণে কম্পিউটার হ্যাং হলে, স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে। অনেক সময় হ্যাং করার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে দেখা যায় PC পুনরায় কাজ করা শুরু করে দেয়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর যদি পুনরাই কম্পিউটার চালু না হয় তবে আপনি এসব প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে পারেন;

প্রথমেই যা আপনি করতে পারেন তা হলো, ঠিক কোন কারনে কম্পিউটার হ্যাং করেছে সেটি খুজে বের করা। তারপর সে অনুযায়ী কাজ করা। এক্ষেত্রে এপ্লিকেশন বা গেমস চালানোর সময় যদি কম্পিউটারটি হ্যাং করে আর এপ্লিকেশন বা গেমসটি যদি ফুল স্কিন হয় তবে আপনি Alt + F4 কি চাপলে সাথে সাথে উইন্ডটি বন্ধ বা close হয়ে যাবে।

তখনও যদি হ্যাং হয়ে থাকে তবে Taskbar-এ গিয়ে মাউসের রাইট বাটন ক্লিক করে Start task manager এ ক্লিক করলে Windows task manager বের হবে। এখন প্রশ্ন হলো, যদি মাউস কাজ না করে তবে কি করবো ?

অনেক সময় মাউস রিস্পন্স করে না। যখন অতিরিক্ত মাত্রাই হ্যাং করে তখন মুলত মাউস কাজ করে না । সেক্ষেত্রে, Start task manager আনার জন্য কিবোর্ডে Ctrl+ Alt+Delete একসাথে চাপতে হবে।এবার Windows task manager আসবে, তারপর Processes ট্যাব সিলেক্ট করে Processes ট্যাবে যেতে হবে। অনেকের কম্পিউটারেই এই ট্যাবটি Default ভাবে সিলেক্ট করা থাকে। যদি আপনার কম্পিউটারে Default করা না থাকে তাহলে আপনি এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সিলেক্ট করে নিতে পারেন )

তারপর Task-এ গিয়ে দেখতে পাবেন PC-র প্রোগ্রাম ও status প্রোগ্রাম কেমন অবস্থায় আছে । প্রোগ্রাম হ্যাং অবস্থায় থাকে তবে Not Responding দেখাবে আর যদি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে তবে Running দেখাবে। সেখানে যে প্রোগ্রামটি হ্যাং অবস্থায় আছে তার উপর ক্লিক করতে হবে। এরপর নিচের দিকে থাকা End Task-এ ক্লিক করলে Notification আসবে। সর্বশেষে End Now বাটনে ক্লিক করার পর কম্পিউটার আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যদি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসে, তাহলে এই প্রক্রিয়াটি পুনরায় অবলম্বন করতে হবে।

এভাবেই আপনি আপনার হ্যাং করা কম্পিউটারটি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আনতে পারেন।

কম্পিউটার হ্যাং প্রতিরোধে করনীয়ঃ

কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে আপনি খুব সহজে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। আপনার কম্পিউটার হ্যাং প্রতিরোধ করতে যা আবশ্যক সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলোঃ

  • কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে কমপক্ষে ৮ GB স্পেস রাখতে হবে।
  • যেসব এপ্লিকেশন প্রয়োজন সেগুলো শুধু Install করে বাকি অপ্রয়োজনীয় এপ্লিকেশন গুলো Uninstall করতে হবে।
  • যেসব এপ্লিকেশন অধিক জায়গা নেয় সেসব এপ্লিকেশন কাজ করার পর Uninstall করে রাখতে হবে।
  • একক সময়ে একটির বেশি প্রোগ্রাম চালানো যাবে না।
  • PC cleaner সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করতে হবে।
  • একনাগারে ব্যবহার না করে দুই তিন ঘন্টা পরপর কম্পিউটার Restart দিতে হবে।
  • RAM cleaner ও RAM Optimizer এপ্লিকেশন ব্যবহার করতে হবে।
  • একটি Antivirus সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে।( ফ্রি হলেও চলবে)
  • Firewall এর ব্যবহার করতে হবে ইন্টারনেট সিকিউরিটির জন্য।
  • বছরে ৩-৪ বার Operating system update করতে হবে।
  • PC তে Command দিলে কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে। Response না এলেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করা শ্রেয়। নতুবা, একটানা বারবার PC তে Command দিলে এক্ষেত্রে হ্যাং করার সম্ভাবনা থাকে।

এগুলো নিয়ম মানলে আপনি অবশ্যই হ্যাং সমস্যা থেকে পুরপুরি পরিত্রাণ পাবেন। আশা করি হ্যাং সমস্যা নিয়ে আপনার আর কোন প্রশ্ন নেই । যদি থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আমরা আপনার প্রশ্নের সঠিক জবার দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!