কিভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন

আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে অনেক কাজ এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি দেখা বা ডাউনলোড করা। আগে যেখানে জন্ম নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করতে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের অফিসে যেতে হতো, এখন কয়েক মিনিটে অনলাইনে এটি চেক ও ডাউনলোড করা যায়। বিশেষ করে ২০২৫ সালে সরকারি সিস্টেম আরও উন্নত হওয়ায় জন্ম নিবন্ধন যাচাই ও অনলাইন কপি পাওয়া আরও সহজ হয়েছে।
এই পোস্টে আমরা ধাপে ধাপে দেখব—
-
- কিভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন
- জন্ম নিবন্ধন যাচাই ও অনলাইনে চেক করার সঠিক নিয়ম
- এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস, যাতে কোনো ভুল ছাড়াই সহজে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি পেতে পারেন।
জন্ম নিবন্ধন কি?
জন্ম নিবন্ধন হলো একটি সরকারি প্রমাণপত্র, যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্ম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, পিতা-মাতার নাম ও জাতীয়তা উল্লেখ থাকে। এটি সরকারের কাছে একজন নাগরিকের প্রথম অফিসিয়াল পরিচয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি নবজাতকের জন্মের পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এটি নিবন্ধন করতে হয়। জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হলে নাগরিককে একটি জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়।
জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব
-
- প্রথম নাগরিক পরিচয়পত্র: একজন নাগরিকের আইনি পরিচয় প্রমাণ করে।
- পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র: আবেদন করার জন্য জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রয়োজন।
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে: স্কুল ভর্তি, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে দরকার হয়।
- বিবাহ ও উত্তরাধিকার: আইনি প্রমাণ হিসেবে জন্ম নিবন্ধনের কপি গুরুত্বপূর্ণ।
- ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি: বয়স নির্ধারণের জন্য জন্ম নিবন্ধন অপরিহার্য।
Online Birth Registration Bangladesh | জন্ম নিবন্ধন করুন ঘরে বসে
বাংলাদেশ সরকারের BDRIS (bdris.gov.bd) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কিত সব কাজ করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে অফিসিয়াল লিংকসহ দেওয়া হলো—
নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
👉 নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করুন
যাদের আগে কখনো জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি, তারা এখানে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন
যদি নাম, জন্ম তারিখ বা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকে, সেক্ষেত্রে এখান থেকে সংশোধনের আবেদন করা যায়।
জন্ম নিবন্ধন তথ্য অনুসন্ধান (অনলাইন কপি চেক)
আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ও অনলাইন কপি যাচাই করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা
আপনি যে আবেদন করেছেন, সেটি বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে তা এখান থেকে ট্র্যাক করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট
আবেদন করার পর চাইলে এখান থেকে আপনার ফর্ম প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন
যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনের হার্ডকপি হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এখান থেকে পুনরায় প্রিন্ট করা সম্ভব।
জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি চেক ও ভেরিফাই করার নিয়ম
অনেক সময় সরকারি কাজ, পাসপোর্ট আবেদন, স্কুল-কলেজে ভর্তি কিংবা অন্য যেকোনো অফিসিয়াল প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাই করা জরুরি হয়। এজন্য প্রয়োজন হয় জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি চেক ও ভেরিফাই করা। এখন আর ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে গিয়ে ঝামেলা করতে হয় না, বরং ঘরে বসেই অনলাইনে সহজে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়।
জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি চেক করার ধাপ
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান: https://bdris.gov.bd/br/search
এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—
-
- আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ সংখ্যার) দিন।
- আপনার জন্ম তারিখ (dd/mm/yyyy ফরম্যাটে) দিন।
- ক্যাপচা কোড পূরণ করুন।
- “Search” বাটনে ক্লিক করুন।
সাথে সাথে আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য এবং ডিজিটাল অনলাইন কপি স্ক্রিনে দেখা যাবে।
জন্ম নিবন্ধন ভেরিফাই করার নিয়ম
-
- তথ্য মিলে গেলে বুঝবেন জন্ম নিবন্ধন বৈধ এবং সঠিক।
- যদি কোনো তথ্য ভুল আসে বা “Record Not Found” দেখায়, তবে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
- ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট বা সরকারি কাজে আবেদন করলে সমস্যা হতে পারে, তাই আগে থেকেই অনলাইন যাচাই করা জরুরি।
কেন জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ভেরিফাই করবেন?
-
- ভুল এন্ট্রি বা ডাটা এড়াতে
- পাসপোর্ট, ভিসা বা চাকরির আবেদনে সমস্যামুক্ত থাকতে
- আসল-নকল সনদ পার্থক্য বোঝার জন্য
- যেকোনো সময় ঘরে বসেই অফিসিয়াল ডকুমেন্ট যাচাই করার সুবিধা
কিভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের BDRIS (Birth and Death Registration Information System) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যায়। যারা পাসপোর্ট, ভিসা, স্কুল ভর্তি বা অন্য কোনো সরকারি কাজে জন্ম নিবন্ধন প্রমাণপত্র লাগবে, তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত দরকারি সুবিধা।
জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোডের ধাপ
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান: https://bdris.gov.bd/br/search
এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—
-
- আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ সংখ্যার) লিখুন।
- জন্ম তারিখ (dd/mm/yyyy ফরম্যাটে) দিন।
- প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড লিখুন।
- তারপর “Search” বাটনে ক্লিক করুন।
- সঠিক তথ্য এন্ট্রি করলে স্ক্রিনে আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি দেখাবে।
- এখান থেকে সরাসরি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
-
- যদি তথ্য সঠিক না আসে, তবে নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
- অনলাইনে পাওয়া কপি ডিজিটাল ভেরিফাইড থাকে, যা অধিকাংশ সরকারি কাজে গ্রহণযোগ্য।
- প্রয়োজনে জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনঃ মুদ্রন অপশন থেকেও নতুন কপি সংগ্রহ করা যায়।
সুবিধা
-
- ঘরে বসে জন্ম নিবন্ধন কপি পাওয়া যায়।
- সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়।
- যেকোনো অফিসিয়াল কাজে দ্রুত জমা দেওয়া সম্ভব।
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ে কী কী তথ্য পাওয়া যায়?
বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট bdris.gov.bd থেকে এখন সহজেই জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি যাচাই করা যায়। যখন আপনি অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য চেক বা ভেরিফাই করেন, তখন ওয়েবসাইটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শিত হয়, যা একজন নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করে।
অনলাইন জন্ম নিবন্ধনে প্রদর্শিত তথ্য
যখন আপনি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করেন, তখন নিচের তথ্যগুলো দেখতে পাবেন—
-
- ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
- জন্ম তারিখ
- জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ সংখ্যার ইউনিক আইডি)
- পিতা ও মাতার নাম
- জন্মস্থান (জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন)
- নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নাম (যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন)
- সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ
কেন এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
-
- নাগরিকের পরিচয় যাচাই করতে
- বয়স নির্ধারণ ও আইনি প্রমাণ হিসেবে
- পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্র আবেদনের সময় প্রয়োজন
- স্কুল ভর্তি ও সরকারি সেবায় তথ্য মিলানোর জন্য
- আসল-নকল জন্ম নিবন্ধন পার্থক্য করতে
পড়ুনঃ কিভাবে করোনা টিকা সনদ সংগ্রহ করবেন
জন্ম নিবন্ধন যাচাই ওয়েবসাইটের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট bdris.gov.bd এর মাধ্যমে এখন জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই ও ডাউনলোড করা যায়। তবে অনেক সময় দেখা যায় ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন। এসব সমস্যা জানলে এবং সমাধানগুলো মেনে চললে সহজেই জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি দেখা ও ডাউনলোড করা সম্ভব।
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
১. ওয়েবসাইট লোড না হওয়া বা ধীরগতি
-
- সমস্যা: অনেক সময় ওয়েবসাইট ওপেন হতে দেরি করে বা লোড হয় না।
- সমাধান: দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে Chrome/Firefox এর মতো আপডেটেড ব্রাউজার ব্যবহার করুন।
২. “Record Not Found” এরর
-
- সমস্যা: তথ্য দেওয়ার পর ওয়েবসাইটে রেকর্ড পাওয়া যায় না।
- সমাধান:
-
-
- নিশ্চিত করুন যে আপনি সঠিক ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়েছেন।
- জন্ম তারিখ dd/mm/yyyy ফরম্যাটে লিখুন।
- যদি তবুও সমস্যা হয়, তবে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন অফিসে যোগাযোগ করুন।
-
৩. ক্যাপচা কোড ভুল দেখানো
-
- সমস্যা: বারবার ক্যাপচা ইনভ্যালিড দেখায়।
- সমাধান: ক্যাপচা কোড মনোযোগ দিয়ে লিখুন এবং ভুল হলে নতুন কোড জেনারেট করুন।
৪. সার্ভার ডাউন বা মেইনটেনেন্স
-
- সমস্যা: কখনও কখনও ওয়েবসাইট সার্ভার ডাউন থাকে বা মেইনটেনেন্সে যায়।
- সমাধান: কয়েক ঘণ্টা পর আবার চেষ্টা করুন।
৫. তথ্য ভুল বা হালনাগাদ না হওয়া
-
- সমস্যা: প্রদর্শিত তথ্য সঠিক নয় বা পুরনো।
- সমাধান: জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের জন্য অফিসিয়াল লিংক ব্যবহার করুন:
👉 https://bdris.gov.bd/br/correction
কেন এসব সমস্যা হয়?
-
- অতিরিক্ত ইউজারের চাপ
- পুরনো বা ভুল তথ্য এন্ট্রি
- ইন্টারনেট সংযোগ ধীর হওয়া
- সার্ভারের টেকনিক্যাল ইস্যু
অরজিন্যাল জন্ম নিবন্ধন দেখব কিভাবে?
আপনি কি অরজিন্যাল জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন খুবই দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে এরকম অরজিন্যাল জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করার কোনো উপায় নেই। এটি নিতে হলে আপনাকে ইউনিয়ন পরিষদে বা কাউন্সিলরের অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আশা করছি অনলাইনে অরজিন্যাল জন্ম নিবন্ধন দেখব এমন প্রশ্ন আর আপনাকে করতে হবে না। ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করবেন না এটি শাস্তিমূলক অপরাধ।
জন্ম নিবন্ধন কোথায় করতে হবে?
বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের জন্য জন্ম নিবন্ধন একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এটি শুধুমাত্র একটি প্রমাণপত্র নয়, বরং নাগরিক জীবনের প্রথম সরকারি পরিচয়। অনেকেই প্রশ্ন করেন—জন্ম নিবন্ধন কোথায় করতে হবে? আসলে, জন্ম নিবন্ধন করার জন্য সরকারের নির্ধারিত কিছু কর্তৃপক্ষ রয়েছে, যারা আইন অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পরিচালনা করে থাকেন।
কোথায় জন্ম নিবন্ধন করতে হবে
-
- ইউনিয়ন পরিষদ: গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জন্ম নিবন্ধন করেন।
- পৌরসভা অফিস: শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য পৌরসভার মেয়র বা মেয়র কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কাউন্সিলর এই দায়িত্ব পালন করেন।
- সিটি কর্পোরেশন: বড় শহরে বসবাসকারীদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা অনুমোদিত কাউন্সিলর জন্ম নিবন্ধন করেন।
- ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড: সেনানিবাস এলাকায় জন্মগ্রহণকারীদের জন্য ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করেন।
- বাংলাদেশ দূতাবাস/কনস্যুলেট: যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা জন্ম নিবন্ধন সেবা প্রদান করেন।
কেন নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে করতে হবে?
কারণ জন্ম নিবন্ধন একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং এটি শুধুমাত্র সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কর্মকর্তারাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে করে নিবন্ধনের তথ্য সঠিকভাবে সরকারি ডাটাবেসে সংরক্ষিত হয়, যা পরবর্তীতে পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি কিংবা আইনি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়
জন্ম নিবন্ধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?
বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন প্রতিটি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক একটি প্রক্রিয়া। তবে অনেকেই জানেন না জন্ম নিবন্ধনের জন্য কাগজপত্র কী কী দিতে হয়। সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে সহজেই জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জন্ম প্রমাণপত্র (যদি হাসপাতাল/ক্লিনিকে জন্ম হয়)
- হাসপাতাল বা ক্লিনিকের সার্টিফিকেট/ছাড়পত্র
- শিক্ষাগত সনদ (যদি থাকে)
- এস.এস.সি বা সমমানের সনদের ফটোকপি
- পরিচয়পত্র
- পাসপোর্টের ফটোকপি অথবা
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর ফটোকপি
- নাগরিকত্ব সনদ
- এলাকার জনপ্রতিনিধী (ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র) কর্তৃক প্রদত্ত নাগরিকত্ব সনদ
- অভিভাবকের তথ্য
- পিতা-মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (যদি থাকে) এবং স্থায়ী ঠিকানা
বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
- বিদেশে জন্মগ্রহণ করলে বাংলাদেশ দূতাবাস/হাইকমিশনের প্রদত্ত প্রমাণপত্র
- জন্ম তারিখ ভিন্ন বা ভুল হলে অতিরিক্ত এফিডেভিট/প্রমাণপত্র
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে কি
বাংলাদেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন একটি ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা যায়। অর্থাৎ, নাগরিকরা চাইলে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে পারেন। এর ফলে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমে গেছে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া
-
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:
https://bdris.gov.bd/br/application - এখানে একটি Birth Registration Form আসবে। সেখানে আবেদনকারীর তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- অনলাইনে আবেদন করার পর ফর্মের একটি প্রিন্ট কপি বের করতে হবে।
- এই প্রিন্ট কপিটি সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন) জমা দিতে হবে।
- নিবন্ধক আপনার আবেদন যাচাই করে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ইস্যু করবেন।
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন:
মনে রাখবেন
-
- শুধুমাত্র অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলেই নিবন্ধন সম্পূর্ণ হয় না।
- অফিসে প্রিন্ট কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জন্ম প্রমাণপত্র, নাগরিকত্ব সনদ, পিতামাতার তথ্য ইত্যাদি) সঙ্গে নিয়ে জমা দিতে হবে।
জন্ম নিবন্ধন ফির হার কত? [২০২৫ আপডেটেড ফি তালিকা]
বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন একটি সরকারি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জন্মদিনের তারিখ অনুযায়ী ও নিবন্ধনের সময়ভেদে এই ফি ভিন্ন হয়ে থাকে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো—
1. জন্ম নিবন্ধনের ফি (নতুন আবেদন)
-
- জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে: কোনো ফি নেই—সম্পূর্ণ ফ্রি
- ৪৫ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত: ২৫ টাকা
- ৫ বছরের বেশি হলে: ৫০ টাকা
2. জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি (নতুন তথ্য অন্তর্ভুক্ত/সংশোধন)
-
- জন্ম তারিখ সংশোধন: ১০০ টাকা
- নাম, পিতা–মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি শুধুমাত্র তথ্য সংশোধন: ৫০ টাকা
3. জন্ম সনদের নকল/ডুপ্লিকেট কপি
-
- বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় নকল সনদ: ৫০ টাকা
4. অতিরিক্ত শর্ত ও তর্ক:
অনেক অনলাইন সোর্স কিছু ভিন্ন সংখ্যার ফি উল্লেখ করে—যেমন ২০১৭ ঘোষণা অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন। তবে, ২০২৫ পর্যন্ত ফি পুনরায় নির্ধারণ করা হয়নি এবং আগের ফি ব্যবস্থা বর্তমান কার্যকর আছে
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
-
- জন্ম নিবন্ধন ফি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত।
- অনলাইনে আবেদন করার পর ফি জমা দিতে হবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন অফিসে)।
- বিদেশে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকে একই নিয়মে ফি প্রদান করতে হয়।
আরও পড়ুনঃ নিজেই নিজের জাতীয় ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করুন
বিদেশে জন্ম হলে দেশে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে কি?
অনেকে ভাবেন, যদি শিশুর জন্ম বিদেশে হয়, তাহলে কি বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব? উত্তর হলো—হ্যাঁ, করা যাবে। বাংলাদেশে প্রচলিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ এর ধারা-৪ অনুসারে নিবন্ধকের কার্যালয়ের অধীনে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন, মৃত্যু বরণ করেছেন অথবা দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, তাদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
বিদেশে জন্ম হলে দেশে নিবন্ধন করার নিয়ম
-
- কোনো শিশু যদি বিদেশে জন্মগ্রহণ করে এবং তার পিতা-মাতা বাংলাদেশি স্থায়ী নাগরিক হন, তাহলে শিশুর জন্ম সনদ (Birth Certificate) বা হাসপাতালের রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে বাংলাদেশে তার স্থায়ী ঠিকানার নিবন্ধকের কার্যালয়ে জন্ম নিবন্ধন করা যাবে।
- আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তার স্থায়ী ঠিকানা বাংলাদেশে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য জন্ম নিবন্ধন
-
- বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন থেকেও জন্ম নিবন্ধন করতে পারেন।
- দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধনের সময় শিশুর জন্ম সংক্রান্ত ডকুমেন্ট (বিদেশি Birth Certificate, পিতা-মাতার পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয়পত্র) জমা দিতে হয়।
- পূর্বে (২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) দূতাবাসে আবেদনকারীর জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করে জন্ম নিবন্ধন করার সুযোগ ছিল, বর্তমানে এই প্রক্রিয়া আরও ডিজিটালাইজড হয়েছে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
- শিশুর বিদেশি Birth Certificate বা জন্ম প্রমাণপত্র
- পিতা-মাতার বাংলাদেশি পাসপোর্ট/জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ (বাংলাদেশে ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের সনদ)
- ছবি ও নাগরিকত্ব সনদ (প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধীর দেওয়া)
বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধনে স্বামীর নাম ও স্থায়ী ঠিকানা কীভাবে লিখতে হবে?
বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধনে স্বামীর নাম লিখা যাবে কি?
বাংলাদেশের প্রচলিত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন মূলত একজন ব্যক্তির জন্ম-সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে সাধারণত ব্যক্তির নাম, জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ থাকে।
তাই জন্ম নিবন্ধনে স্বামীর নাম লিখার সুযোগ নেই। জন্ম নিবন্ধন কখনো বৈবাহিক অবস্থা বা দাম্পত্য তথ্য প্রকাশের জন্য নয়, বরং এটি নাগরিকের জন্ম-সম্পর্কিত তথ্যের একটি প্রমাণপত্র।
বিবাহিত নারীর স্থায়ী ঠিকানা কীভাবে লিখতে হবে?
বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধনে স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়—
১. জন্ম নিবন্ধন সবসময় ব্যক্তির জন্ম-সময়ের স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী ইস্যু হয়।
-
- অর্থাৎ, জন্মের সময় যে ঠিকানা ছিল (পিতা বা অভিভাবকের ঠিকানা), সেটিই জন্ম নিবন্ধনে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে থাকবে।
২. বিয়ের পর স্বামীর ঠিকানা জন্ম নিবন্ধনে লেখা যাবে না।
-
- কারণ এটি জন্ম সংক্রান্ত একটি আইনি ডকুমেন্ট, বৈবাহিক ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জন্ম নিবন্ধনে যুক্ত করা হয় না।
৩. যদি পরে কোনো কারণে ঠিকানা পরিবর্তন প্রয়োজন হয় (যেমন সরকারি কাজে ঠিকানা মিলাতে), তবে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন করতে হবে।
সংশোধনের লিংক: https://bdris.gov.bd/br/correction
সংক্ষেপে
-
- জন্ম নিবন্ধনে স্বামীর নাম কখনো লেখা যাবে না।
- স্থায়ী ঠিকানা সর্বদা জন্মের সময়কার পিতামাতার ঠিকানা হবে।
- বিয়ের পর পরিবর্তন দরকার হলে শুধুমাত্র ঠিকানা সংশোধন করা যাবে, তবে তা সঠিক প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে করতে হবে।
মৃত্যু নিবন্ধন কিভাবে করতে হবে?
বাংলাদেশে জন্মের মতো মৃত্যু নিবন্ধনও বাধ্যতামূলক। এটি একজন ব্যক্তির মৃত্যুর সরকারি প্রমাণপত্র হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমানে BDRIS (Birth and Death Registration Information System) এর মাধ্যমে সহজেই অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন করা যায়।
মৃত্যু নিবন্ধন করার ধাপ
-
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান:
👉 https://bdris.gov.bd - জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (Death Registration) মেনু থেকে “মৃত্যু নিবন্ধন” লিংকে প্রবেশ করুন।
- যদি মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন আগে থেকেই থাকে, তাহলে:
- জন্ম তথ্য অনুসন্ধান পাতায় গিয়ে জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
- সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে সেই ভিত্তিতেই মৃত্যু নিবন্ধন করা যাবে।
- যদি মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন আগে না করা থাকে:
- প্রথমে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে অথবা পুরনো ম্যানুয়াল খাতার তথ্য অনলাইনভুক্ত করতে হবে।
- যদি কোনোভাবেই জন্ম নিবন্ধন না করা সম্ভব হয় (যেমন বিদেশি নাগরিক বা অজ্ঞাত ব্যক্তি):
- জন্ম তথ্য অনুসন্ধান পাতার নিচে থাকা “অজ্ঞাত/বিদেশী” বাটনে ক্লিক করুন।
- প্রদত্ত ফরম পূরণ করে মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
- প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান:
নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর
-
- অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মৃত্যু নিবন্ধন বই (Death Register Book) তৈরি হবে।
- “মৃত্যু নিবন্ধন বই” লিংকে ক্লিক করে সেই বই দেখা ও যাচাই করা যাবে।
কেন মৃত্যু নিবন্ধন জরুরি?
-
- আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- উত্তরাধিকার, সম্পত্তি বণ্টন বা ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রয়োজনীয়।
- সরকারি নথি ও পরিসংখ্যানের জন্য অপরিহার্য।
জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?
বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র। এটি শুধু নাগরিক পরিচয় নয়, বরং নানান সরকারি-বেসরকারি কাজে অপরিহার্য। নিচে ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো—
-
- জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই
- পাসপোর্ট ইস্যু
- বিবাহ নিবন্ধন
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
- সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
- ভোটার তালিকা প্রণয়ন
- জমি রেজিস্ট্রেশন
- ব্যাংক হিসাব খোলা
- আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স প্রাপ্তি
- গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
- ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) প্রাপ্তি
- ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি
- বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি
- গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তি
- ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রাপ্তি
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, আজকের ডিজিটাল যুগে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি দেখা, যাচাই করা এবং প্রয়োজনে ডাউনলোড করা খুব সহজ হয়ে গেছে। আগে যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের অফিসে গিয়ে কপি সংগ্রহ করতে হতো, এখন ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে অনলাইনে এটি পাওয়া সম্ভব।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার মাধ্যমে নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হয়, ভুল তথ্য সংশোধন করা যায় এবং আসল-নকল সনদ পার্থক্য বোঝা সহজ হয়। এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং নাগরিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে অপরিহার্য একটি প্রমাণপত্র।
সংক্ষেপে বলা যায়, জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে তা যদি আমরা দেখি, তবে বোঝা যায় পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, স্কুল ভর্তি, চাকরি, জমি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংকিং কার্যক্রম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নাগরিক সুবিধা গ্রহণের জন্য এটি অপরিহার্য।
তাই যারা এখনো জন্ম নিবন্ধন করেননি বা পুরোনো তথ্য হালনাগাদ করেননি, তাদের দ্রুত অনলাইনে আবেদন করে সঠিক তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত। সময়মতো জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত কাজে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।
FAQ
১. জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি কিভাবে ডাউনলোড করবো?
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://bdris.gov.bd/br/search এ গিয়ে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্ম তারিখ ও ক্যাপচা কোড দিয়ে সার্চ করলে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি দেখা ও ডাউনলোড করা যায়।
২. জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য কী তথ্য দরকার?
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে হলে ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রয়োজন হয়। এগুলো ঠিকভাবে দিলে অনলাইনে যাচাই সম্ভব।
৩. অনলাইন কপি কি অরিজিনাল জন্ম নিবন্ধন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে?
অনলাইন কপি তথ্য যাচাইয়ের জন্য বৈধ হলেও সরকারি বা আইনি কাজে মূল (হার্ডকপি) জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়।
৪. জন্ম নিবন্ধনের ভুল তথ্য কীভাবে সংশোধন করবো?
জন্ম তারিখ বা নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি সংশোধনের জন্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://bdris.gov.bd/br/correction থেকে আবেদন করতে হবে।
৫. জন্ম নিবন্ধন কি কি কাজে লাগে?
জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন হয় পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, স্কুল ভর্তি, চাকরি, জমি রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রায় সব সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজে।
Beta feature
Beta feature