মোবাইল টিপস

ফোনের চার্জ দীর্ঘায়ু করার কার্যকরি কিছু উপায়

স্মার্ট ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের দৈনন্দিন নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। তার মধ্যে বড় একটা সমস্যা হলো ফোনের ব্যাটারির চার্জের স্থায়িত্বকাল। কিছু সংখ্যক ব্যবহারকারি ছাড়া প্রায় আমরা সকলেই এই সমস্যার সাথে পরিচিত। দেখা যায়, কিছুক্ষন ব্যবহারের পরই আমাদের ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। অথবা আমাদের ব্যাটারি লাইফ স্বল্পকক্ষনের মধ্যেই ফুড়িয়ে যায়। মূলত ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কম হওয়ার জন্য এটি হয়ে থাকে। এছাড়াও এটি হওয়ার কিছু নির্দিষ্ট কারন রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো আমাদের অসতর্কভাবে স্মার্টফোনের  ব্যবহার। এটিই চার্জ না থাকা সমস্যার প্রধান কারণ। সমস্যা যেহেতু আছে, তা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও অবশ্যই আছে।

সহজ কিছু পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যেমে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। ব্যাটারির ক্ষমতা কম হলে সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিতি না পাওয়া গেলেও কার্যক্ষমতা যা বৃদ্ধি পায় তা সন্তুষজনক। এই আর্টিকেলটি পড়ে মুটামুটি সব স্মার্ট ফোন ব্যবহারকারিই উপকৃত হবে বলে আশা করা যায়। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন পদক্ষেপ গুলো জেনে নেওয়া যাক,

ব্যাটারি সেভার মুড অন করা

সকল স্মার্ট ফোনেই ব্যাটারি সেভার মুড আছে। এই মুডটি অন বা এ্যাক্টিভ করলে অনেকাংশে ব্যাটারি লাইভ বৃদ্ধি পায়। এটি সম্পূর্ণ কার্যকরি একটি প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে আপনার যা করতে হবে তা হলো প্রথমেই মোবাইলের সেটিংসে যেতে হবে। সেটিংসে গিয়ে ব্যাটারি অপসনে ঢুকতে হবে। তারপর ব্যাটারি সেভার অপসনটি এক্টিভেট করতে হবে, ব্যাস। এটি চালু করে রাখায় ফোনের কোন প্রকার ক্ষতি হয় না। এমনকি সারাদিন, সারাক্ষণ চালু রাখলেও। এটি চালু করার ফলে শুধু ফোনের চলমান অ্যাপটির প্রয়োজনীয় চার্জ খরচ হয়। যার ফলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকা অ্যাপ গুলোর কারনে চার্জ খরচ হয় না।

ফোনের ব্রাইটনেস কমিয়ে ফেলা

অনেকের ফোনেই ব্রাইনেস ১০০% দেওয়া থাকে। অনেকেরি অভ্যাস হলো ফোনের ব্রাইটনেস বেশি রেখে ফোন ব্যবহার করা। যা ব্যাটারির চার্জের ওপর বিশাল আকারের প্রভাব ফেলে। ব্যাটারির উপর তো এর প্রভাব পরেই এমনি আমাদের চোখের উপরও এর বড় ধরনের প্রভাব পরে। এই কাজটি থেকে আমাদের একান্তই দূরে থাকতে হবে। অনেক ফোনেই ব্রাইটনেস অটো এ্যাডজাষ্টের মাধ্যমে ফোনের ব্রাইটনেস কম বেশি হয়ে থাকে। সেই সব ফোনে এই পদক্ষেপটি গ্রহন করতে হয় না। তাছাড়া অন্যান্য সব ফোনের ব্রাইটনেস সর্বদা কম করে রাখতে হবে। আপনি চাইলে ফোনে ডার্ক মোড অথাবা ডার্ক ওয়ালপেপার ব্যবহার করতে পারেন। যার ফলে দেখা যাবে, দিন শেষে ফোনের চার্জ অনেকটা অতিরিক্ত ব্যাক-আপ দিবে।

নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চার্জ দেওয়া

আমরা অনেকেই স্মার্ট ফোনের চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক না। অর্থাৎ, ফোনের চার্জ একবারে শেষ হয়ে যাওয়ার আগমুহুর্ত পর্যন্ত আমরা চার্জারে আশেপাশেও যাই না। ফোনের চার্জ যখন অন্তিমমুহুর্তে তখন আমরা ফোনটি চার্জে দিই। যা ফোনের ব্যাটারির অনেক বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের চার্জ ২০% থেকে ৮০% থাকা অবস্থায় ফোন সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এই সময়টুকু ফোন ব্যবহারের জন্য খুবই উপযোগী। অর্থাৎ, ফোনের চার্জ ২০% হওয়ার আগেই ফোন চার্জে দিতে হবে। তাহলে ফোনের ব্যাটারি ঠিকঠাক ভাবে কাজ করবে। আর একটা দিক আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। সেটা হলো, ফোনে ফুল চার্জ হওয়ার পর ফোনের চার্জার খুলে ফেলতে হবে। অনেকেই ফোন সারা রাত চার্জারের সাথে প্লাগিন করে রাখে। যা মোটেও ঠিক না। এর ফলে ব্যাটারির তৎক্ষনাত ক্ষতি বোঝা না গেলেও কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাটারির ব্যাপক ক্ষতি হয়।

Wifi এবং ব্লুটুত বন্ধ রাখা

যখন আমাদের ফোনটি আমাদের নাগালের বাহিরে থাকে তখন আমাদের কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত। আমরা যখন ফোনের আসেপাশেও থাকি না তখনও আমরা ফোনের Wifi চালু করে রাখি। যাতে করে সীমিত আকারের হলেও ফোনের চার্জ শেষ হয়। অর্থাৎ, আমরা যখন ফোন ব্যবহার করি না তখন ফোনের Wifi কানেকশন বন্ধ রাখতে হবে। কেননা, এই সামান্য অসতর্কতার জন্যই আমাদের ফোনের চার্জ তুলনা মুলক তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। ব্লুটুতের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে থাকে। যখন ফোনের সাথে ওয়ারলেস হেড ফোন, স্পিকার অথবা এই ধরনের ডিভাইস সংযুক্ত না থাকে তখন ব্লুটুত বন্ধ রাখায় স্রেয়। কারন এটিও নিরব ঘাতকের মত কাজ করে। স্বল্প পরিসরে এটিও ফোনের চার্জ শেষ করে। এই ছোট্ট পদক্ষেপও আপানার ফোনের কিছুটা চার্জ রক্ষায় ব্যাপক ভাবে সাহায্য করবে।

ব্যাটারি সেভার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার বন্ধ করা

ফোনের থার্ড পার্টি অ্যাপগুলোর মধ্যে ব্যাটারি সেভার অ্যাপগুলো অন্যতম। অনেকই মনে করেন এসব অ্যাপ ফোনের ব্যাটারির জন্য ভালো। বা এগুলো ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষন টিকে রাখে। যা সম্পূর্ন ভ্রান্ত একটি ধারনা। এই অ্যাপগুলো ব্যাটারির চার্জ তো টিকে রাখেয় না বরং এগুলো চালু থাকায় ব্যাটারির চার্জ আরো বেশী তাড়াতাড়ি শেষ হয়। তাই আমাদের এসব ব্যাটারি সেভার অ্যাপ ব্যবহার থেকে সম্পুর্ণ বিরত থাকতে হবে।

চার্জ অধিক ব্যয় করে এমন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করা

ফোনের ম্যাসেজিং অ্যাপ্লিকেশন গুলো ফোনের চার্জের আয়ু দ্রুত শেষ করতে সক্ষম। এসব অ্যাপ্লিকেশন গুলো ব্যবহার না করলেও এগুলো নিরব ঘাতকের মত ব্যাটারির চার্জ শেষ করে। তাই এসব ম্যাসেজিং অ্যাপ্লিকেশন গুলোর ব্যবহার না করায় শ্রেয়। (আপনি চাইলে ব্রাউজারে এসব ব্যবহার করতে পারেন।) এগুলো অ্যাপ ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ আছে যেগুলো ব্যবহার করা বঞ্চনীয়। কেননা, ফোনে ব্যবহার করা অ্যাপ্লিকেশন গুলোর উপর অনেকাংশে ব্যাটারির চার্জের আয়ু নির্ভর করে। তাই অধিক চার্জ ব্যয় করে এমন অ্যাপ ব্যবহার করা একদম পরিত্যাগ করতে হবে।

নোটিফিকেশন অপসন বন্ধ রাখা

বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ার অ্যাপ্লিকেশন গুলো থেকে যেসব নোটিফিকেশন আসে সেগুলোও ফোনের চার্জ কিছুটা ক্ষয় করে ফেলে। এসব নোটিফিকেশন অপসন বন্ধ করে রাখতে হবে। যাতে করে ফোনের নোটিফিকেশনের জন্য কোন চার্জ না ব্যয় হয়। যার ফলে দেখা যাবে ফোনের চার্জ কিছুটা হলেও বেশিক্ষন ব্যাক আপ দেবে।

ফোনের লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখা

অনেক অ্যাপ্লিকেশনেই লোকেশন ট্রেকিং সার্ভিস থাকে। যা ফোনের লোকেশন ট্রাক করে পর্যবেক্ষন করে যে আমরা কোথায় আছি। এটি একদিক থেকে সুবিধাজনক, কিন্তু এটি ফোনের চার্জ অল্প পরিমানে ব্যয় করে ফেলে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ফোনের ব্যাটারির চার্জ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন তবে এটি বন্ধ রাখা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ন। এটি বন্ধ রাখার ফলে ফোনের চার্জ কিছুটা ব্যয় রোধ হবে।

যদিও ফোনের চার্জের ক্ষেত্রে ব্যাটারির ক্ষমতা বেশি হওয়াটাই অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আপনার ব্যাটারির ক্ষমতা যদি খুব বেশি নাও হয় তখন চার্জের আয়ু বাড়াতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা একান্ত জরুরি। যদিও সেই পদক্ষেপ গুলো অত্যন্ত বেশি পরিমানে চার্জের আয়ু রক্ষা করে না। তবুও এসব প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি ফোনের চার্জের আয়ু রক্ষার্থে সন্তষ্টিজনক ভাবে কাজ করে। এক্ষেত্রে ফোনের চার্জ রক্ষার্থে উপরের টেকনিক গুলো অনেকটায় কার্যকর। তাই উপরের ট্রিকস গুলো যদি আপনি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে মানতে পারেন তবে আপনি আশানুরুপ ফলাফল পাবেন। আজ এই পর্যন্তই। কথা হবে অন্য এক আর্টিকেলে। এতক্ষন সময় ও মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকার উপায়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!