ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া তালিকা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া তালিকা জানা থাকলে টিকিট কাটার আগে খরচ, যাত্রার সময় এবং লাগেজের সীমা সহজে মিলিয়ে নিতে পারবেন। সাধারণত ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিমানে যেতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট লাগে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ হওয়ায় পাসপোর্ট দরকার নেই; জাতীয় পরিচয়পত্র বা অনুমোদিত অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলেই যাত্রা করা যায়।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ
- ঢাকা–চট্টগ্রাম আকাশপথে যাত্রার সময় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট।
- এছাড়াও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
- সপ্তাহে মোটামুটি ২১ থেকে ৩০টি ফ্লাইট থাকতে পারে।
- তবে ভাড়া প্রায় ৩,৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ফ্লেক্সিবল টিকিটে ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানের সময়সূচী
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানের সময়সূচী অনুযায়ী সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই ফ্লাইট পাওয়া যায়। সাধারণত এই রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা ২১ থেকে ৩০টির মধ্যে থাকে। তবে নির্দিষ্ট দিনের সময়সূচী বিমান সংস্থা, আসনসংখ্যা, যাত্রার তারিখ এবং অপারেশনাল পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে বদলাতে পারে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী তিনটি বিমান সংস্থা ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে সেবা দিচ্ছে। তবে প্রতিটি সংস্থার প্রতিদিনের নির্দিষ্ট ফ্লাইট সংখ্যা এখানে আলাদাভাবে দেওয়া নেই। তাই টিকিট কাটার সময় নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে অফিসিয়াল বুকিং পেজে সময় মিলিয়ে নেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
| বিমান সংস্থা | রুটে সেবা | সময়সূচী যাচাইয়ের উপায় |
|---|---|---|
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম | অফিসিয়াল অনলাইন টিকিট পেজে তারিখ দিয়ে অনুসন্ধান |
| নভোএয়ার | ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম | ফ্লাইট তারিখ ও আসন দেখে বুকিং |
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স | ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম | নির্দিষ্ট যাত্রার তারিখ দিয়ে সময় যাচাই |
তাই যাত্রার দিন বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের সময় আবার দেখে নিন। বিশেষ করে ভোরের ফ্লাইট, ছুটির দিনের যাত্রা কিংবা সংযোগ-নির্ভর পরিকল্পনা থাকলে এই যাচাই জরুরি। সময়সূচী পরিবর্তিত হলে আগের নোট করা সময়ের ওপর নির্ভর করে বিমানবন্দরে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আর জেনে নিনঃ ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানের সময়সূচী
ঢাকা–চট্টগ্রাম বিমানের ভাড়া কত
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানের ভাড়া বিমান সংস্থা এবং টিকিটের ধরন অনুযায়ী আলাদা হয়। দেওয়া ভাড়া তালিকায় সর্বনিম্ন মূল্য প্রায় ৩,৪০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ফ্লেক্সিবল বা উচ্চতর শ্রেণির টিকিটে খরচ ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। তবে কর, আসনপ্রাপ্যতা ও বুকিংয়ের সময় অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল্য বদলাতে পারে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সুপার সেভার টিকিটের ভাড়া ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। অন্যদিকে বিজনেস ফ্লেক্সিবল শ্রেণির ভাড়া ৪,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকার মধ্যে দেওয়া হয়েছে। তাই কম খরচে ভ্রমণ করতে চাইলে সুপার সেভার আসন আগে খুঁজে দেখা যেতে পারে।
সুপার সেভার টিকিট সাধারণত নির্দিষ্ট পরিকল্পনার যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে বিজনেস ফ্লেক্সিবল টিকিটে পরিবর্তন বা নমনীয়তার প্রয়োজন থাকা যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকার পেতে পারেন। তাই বুকিংয়ের আগে পরিবর্তন ও বাতিলের শর্ত পড়ে নিন।
নভোএয়ার
নভোএয়ারের স্পেশাল প্রোমো ভাড়া ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা। তবে ফ্লেক্সিবল টিকিটের মূল্য ৪,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। প্রোমো আসন সীমিত থাকলে একই দিনে অন্য ভাড়া শ্রেণি দেখাতে পারে। তাই শুধু সর্বনিম্ন দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩,৪০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। আবার সর্বোচ্চ ভাড়া ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। ফলে একই রুটে তিনটি সংস্থার দাম তুলনা করার সময় টিকিটের শ্রেণি, লাগেজ সুবিধা এবং পরিবর্তনের শর্ত একসঙ্গে দেখা দরকার।
| বিমান সংস্থা | কম ভাড়া | বেশি ভাড়া | টিকিটের ধরন |
|---|---|---|---|
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | ৩,৫০০ টাকা | ৯,০০০ টাকা | সুপার সেভার ও বিজনেস ফ্লেক্সিবল |
| নভোএয়ার | ৩,৫০০ টাকা | ৯,০০০ টাকা | স্পেশাল প্রোমো ও ফ্লেক্সিবল |
| ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স | ৩,৪০০ টাকা | ৯,০০০ টাকা | সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়া |
অনলাইন টিকিট কাটার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, নভোএয়ারের টিকিট বুকিং পেজ এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন। তবে পেমেন্টের আগে প্রদর্শিত মোট ভাড়া ও শর্তগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
কোন টিকিটটি আপনার জন্য ভালো
কম খরচে নির্দিষ্ট দিনে ভ্রমণ করতে চাইলে সুপার সেভার বা স্পেশাল প্রোমো টিকিট উপযোগী হতে পারে। তবে তারিখ পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকলে ফ্লেক্সিবল টিকিট বিবেচনা করুন। আসল পার্থক্যটি শুধু দামে নয়; বরং টিকিটের শর্ত আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- বাজেটভিত্তিক যাত্রা: তাই ৩,৪০০ থেকে ৪,০০০ টাকার কম ভাড়ার আসন আগে খুঁজুন।
- তারিখ নিশ্চিত নয়: ফ্লেক্সিবল শ্রেণির নিয়ম ও পরিবর্তন ফি যাচাই করুন।
- ব্যস্ত সময়ের ভ্রমণ: সীমিত আসনের কারণে আগে বুকিং করা সুবিধাজনক হতে পারে।
- লাগেজ বেশি হলে: এছাড়াও টিকিটের ব্যাগেজ সীমা এবং অতিরিক্ত ফি আগে জেনে নিন।
ধরা যাক, একজন যাত্রী নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে যাবেন এবং সঙ্গে বড় লাগেজ নেই। সে ক্ষেত্রে তাঁর জন্য কম ভাড়ার টিকিট সাশ্রয়ী হতে পারে। বিপরীতে ফেরার তারিখ বদলানোর সম্ভাবনা থাকলে সামান্য বেশি দামের ফ্লেক্সিবল টিকিট ভবিষ্যৎ ঝামেলা কমাতে পারে।
লাগেজ বহনের নিয়ম কী
ইকোনমি শ্রেণির যাত্রীরা ২০ কেজি পর্যন্ত চেক-ইন করা মালামাল এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করতে পারবেন। অন্যদিকে বিজনেস শ্রেণির যাত্রীরা ৩০ কেজি চেক-ইন লাগেজ ও ৭ কেজি কেবিন লাগেজ নিতে পারবেন। তবে নির্ধারিত সীমার বেশি মালামালের জন্য অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
| টিকিটের শ্রেণি | চেক-ইন লাগেজ | কেবিন লাগেজ |
|---|---|---|
| ইকোনমি | ২০ কেজি | ৭ কেজি |
| বিজনেস | ৩০ কেজি | ৭ কেজি |
লাগেজের ওজন সীমা অতিক্রম করলে বিমান সংস্থাভেদে অতিরিক্ত ফি আলাদা হতে পারে। তাই ভারী ব্যাগ নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে চমকে যাওয়ার বদলে নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করুন। এছাড়া অনলাইন বুকিংয়ের সময় ব্যাগেজ-সংক্রান্ত শর্ত দেখা গেলে সেটিও সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।
ভ্রমণের জন্য কী পরিচয়পত্র লাগবে
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই। সাধারণত যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকলেই পরিচয় যাচাইয়ের কাজ করা যায়। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে অনুমোদিত অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।
টিকিটে লেখা যাত্রীর নাম এবং পরিচয়পত্রের নামের মধ্যে অমিল থাকলে চেক-ইনে সমস্যা হতে পারে। তাই বুকিংয়ের সময় নামের বানান সতর্কতার সঙ্গে লিখুন। উপরন্তু পরিচয়পত্রের মূল কপি সঙ্গে রাখা ভালো; শুধু মোবাইলে ছবি থাকলেই সব পরিস্থিতিতে গ্রহণ করা হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সাধারণ ভুলগুলো এড়াবেন কীভাবে
ভাড়া দেখার সময় অনেকে শুধু প্রাথমিক দামটি লক্ষ্য করেন। কিন্তু পরে কর, আসন পরিবর্তনের শর্ত বা অতিরিক্ত লাগেজ ফি যোগ হতে পারে। তাই পেমেন্টের আগে চূড়ান্ত মোট মূল্য এবং টিকিটের নিয়ম পড়ে নেওয়া দরকার।
- শুধু সর্বনিম্ন ভাড়া দেখে টিকিট না কাটা।
- এছাড়াও ফ্লাইটের সময়সূচী পুনরায় যাচাই না করে বিমানবন্দরে না যাওয়া।
- পরিচয়পত্রের নামের বানান টিকিটের সঙ্গে না মিলিয়ে রাখা।
- লাগেজের ওজন সীমা না জেনে অতিরিক্ত মালামাল বহন করা।
- ফ্লেক্সিবল টিকিটের পরিবর্তন বা বাতিলের শর্ত না পড়া।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, একই রুটে ভাড়া কাছাকাছি হলেও টিকিটের সুবিধা এক নাও হতে পারে। তাই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানের সময়সূচী ও ভাড়া তালিকা দেখার সময় দাম, লাগেজ এবং পরিবর্তনের নিয়ম—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে তুলনা করুন।
যাত্রার আগে শেষ যাচাই
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিমানযাত্রা দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে সহজ। সাধারণ যাত্রার সময় ৪০ থেকে ৫০ মিনিট, পাসপোর্টের প্রয়োজন নেই এবং তিনটি বিমান সংস্থার মধ্যে ভাড়া তুলনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে সময়সূচী ও ভাড়া পরিবর্তনশীল হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অফিসিয়াল বুকিং পেজে তথ্য মিলিয়ে নিন।
টিকিট কাটার পর পরিচয়পত্র, লাগেজের ওজন এবং ফ্লাইটের সময় আবার যাচাই করুন। এছাড়া অতিরিক্ত লাগেজ থাকলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার কাছ থেকে সম্ভাব্য ফি জেনে নিলে বিমানবন্দরে অপ্রত্যাশিত খরচের ঝুঁকি কমে।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিমানে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে বিমানে যেতে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ মিনিট লাগে। তবে আবহাওয়া, বিমান চলাচল এবং অপারেশনাল কারণে প্রকৃত সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
এই রুটে কোন কোন বিমান সংস্থা আছে?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পাসপোর্ট লাগবে কি?
পাসপোর্ট লাগবে না। তাই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। সেটি না থাকলে অনুমোদিত অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
ঢাকা–চট্টগ্রাম বিমানের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩,৪০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। তবে আসন, তারিখ এবং টিকিটের ধরন অনুযায়ী মূল্য বদলাতে পারে।
ইকোনমি শ্রেণিতে কত লাগেজ নেওয়া যায়?
ইকোনমি যাত্রীরা ২০ কেজি চেক-ইন লাগেজ এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করতে পারবেন। তবে সীমা পেরোলে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
বিজনেস শ্রেণিতে লাগেজের সীমা কত?
বিজনেস শ্রেণিতে ৩০ কেজি চেক-ইন লাগেজ এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ বহন করা যায়। নির্দিষ্ট শর্তের জন্য বিমান সংস্থার বুকিং তথ্য দেখুন।
সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট থাকে?
ঢাকা–চট্টগ্রাম আকাশপথে সপ্তাহে মোটামুটি ২১ থেকে ৩০টি ফ্লাইট থাকতে পারে। নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সময়সূচী যাচাই করুন।




