একুশে এক্সপ্রেস বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার ২০২৬ । ঢাকা ও নোয়াখালী
আমার নিজের কাছেই প্রায়ই প্রশ্ন আসে, “ভাই, একুশে এক্সপ্রেসের কাউন্টার নাম্বারটা কত ছিল?” অথবা “কোনখানে ফোন করলে কনফার্ম সিট পাওয়া যাবে?” আসলে, এই বাস সার্ভিসটা নিত্যযাত্রীদের কাছে বেশ পরিচিত। বিশেষ করে যারা ঢাকা থেকে নোয়াখালী, সোনাপুর, চৌমুহনী বা মাইজদী যান, তাদের জন্য এটি প্রাণের বাহন। সত্যি বলতে, এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না যে প্রতিটি কাউন্টারের আলাদা নাম্বার থাকে, আর ভুল নাম্বারে ফোন করলে ঝামেলা বাঁধে। তাই আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি একুশে এক্সপ্রেস বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার—সেগুলো সুবিধামতো ঢাকা ও নোয়াখালী অংশে ভাগ করে দিচ্ছি।
একটু ভেবে দেখলে, জীবনের ব্যস্ততায় এই নাম্বারগুলোর প্রয়োজনীয়তা কতখানি! সময়মতো টিকিট না পেলে অফিস বা বাড়ি পৌঁছানো দায় হয়ে যায়। এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি বিভিন্ন কাউন্টার থেকে সরাসরি যোগাযোগ করে। ২০২৬ সালেও এগুলো সচল আছে, তবে কোনো কাউন্টার সাময়িক বন্ধ থাকলে আগে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই ভালো।
ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে কাউন্টার নাম্বার
ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এরা ছেড়ে যায়। নিচের নাম্বারগুলো ডায়াল করে সরাসরি কাউন্টার মাস্টারের সাথে কথা বলতে পারবেন।
| কাউন্টারের নাম/লোকেশন | ফোন নাম্বার |
|---|---|
| টিটি পাড়া (মানিক নগর বিসা রোড) | ০১৭৩০-৮৯৭৪০০ |
| আদাবর | ০১৭৩০-৮৯৭৪১০ |
| ফার্মগেট (কাওরান বাজার) | ০১৭৩০-৮৯৭৪১০ |
| উত্তরা, আজমপুর | ০১৭৩০-৮৯৭৪৯৭ |
| টঙ্গী বাজার | ০১৭৩০-৮৯৭৪৯৯ |
| মহাখালী | ০১৭৩০-৮৯৭৪১৩ |
| মিরপুর-১০ | ০১৭৩০-৮৯৭৪০৯ |
| গোলাপবাগ | ০১৭৩০-৮৯৭৪০৩ |
| আব্দুল্লাহপুর | ০১৭৩০-৮৯৭৪২২ |
| নীলক্ষেত | ০১৭৩০-৮৯৭৪১২ |
| মিরপুর-১ | ০১৭৩০-৮৯৭৪০৮ |
| কমলাপুর | ০১৭৩০-৮৯৭৪১৭ |
| বাড্ডা | ০১৭৩০-৮৯৭৪৯৬ |
| টঙ্গী কলেজ গেট | ০১৭৩০-৮৯৭৪২১ |
| ঝিগাটোলা | ০১৭৩০-৮৯৭৪১১ |
| কাকুকেট | ০১৭৩০-৮৯৭৪০৭ |
| ফকিরা পুল | ০১৭৩০-৮৯৭৪১৫ |
| বিমানবন্দর | ০১৭৩০-৮৯৭৪৯৮ |
| চিটাগাং রোড | ০১৭৩০-৮৯৭৪১৬ |
| শ্যামলী | ০১৭৩০-৮৯৭৪০২ |
| জনোপথ মোড় (সায়েদাবাদ) | ০১৭৩০-৮৯৭৪০৬, ০১৭৩০-৮৯৭৪০৫ |
নোয়াখালী অঞ্চল ও মহাসড়কে কাউন্টার নাম্বার
এই অংশটা বিশেষ করে নোয়াখালী, সোনাপুর, মাইজদী অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য। একুশে এক্সপ্রেসের মূল রুট এখান দিয়েই যায়। নিচের নাম্বারগুলো থেকে আপনি আসল তথ্য পাবেন।
| কাউন্টারের নাম/লোকেশন | ফোন নাম্বার |
|---|---|
| সোনাপুর | ০১৭৩০-৮৯৭৪৭৩ |
| দত্তের বাড়ি | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫৩ |
| বজরা | ০১৭৩০-৮৯৭৪৬১ |
| চৌমনি ক্রসরোড | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫৮ |
| মাইজদী পৌরশোভা ভবন | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫৫ |
| সোনাপুর রেলওয়ে স্টেশন | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫২ |
| সুরবর্ণচর | ০১৭৩০-৮৯৭৪৬০ |
| সোনাপুর জিরো পয়েন্ট | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫১ |
| সোনাইমুড়ি | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫৯ |
| মাইজদী নতুন বাস টার্মিনাল | ০১৭৩০-৮৯৭৪৫৬ |
কেন এই নাম্বারগুলো আপনার কাজে লাগবে?
আমি নিজে একবার চট্টগ্রাম থেকে ফিরছিলাম, আর মহাখালী কাউন্টারে ফোন করে সিট না পেয়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছিল। তখন বুঝেছিলাম, প্রতিটি কাউন্টারের আলাদা নাম্বার জেনে রাখা কত জরুরি। আসলে, বিভিন্ন রুটের জন্য বাসের সময়সূচী ভিন্ন থাকে। যেমন, টংগী বাজার থেকে বাস ছাড়ে সকাল ৭টায়, আর মাইজদী টার্মিনাল থেকে রাত ৮টায়।
এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না যে আপনি যদি শুধু একটা নাম্বার ডায়াল করেন, তাহলে কখনও কখনও লাইনের কারণে বা ব্যস্ততার কারণে কানেক্ট হয় না। তাই হাতে একাধিক নাম্বার থাকলে সুবিধা হয়। বিশেষ করে উৎসবের সময় (যেমন ঈদ বা পূজা) এই নাম্বারগুলো চাঁদের মতো কাজ করে। তখন অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের জন্য একজন যাত্রীকে কমপক্ষে ২-৩টি কাউন্টারে ফোন করতে হয়।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
নাম্বারগুলো ডায়াল করার আগে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন—কাউন্টারগুলি সাধারণত ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে বড় রুটের জন্য (যেমন চৌমুহনী বা সোনাপুর) রাত ১২টা পর্যন্ত সচল থাকে। আপনি যদি সকাল ১০টায় ফোন করেন, তাহলে দ্রুত রিসিভ করবেন। আর যদি রাত ১১টায় ফোন করেন, তাহলে কিছু কাউন্টার বন্ধ থাকতে পারে।
- প্রথমে লোকেশন চিহ্নিত করুন: আপনি কোথা থেকে উঠবেন? ঢাকা হলে উপরের তালিকা থেকে। নোয়াখালী হলে নিচের তালিকা থেকে।
- নাম্বারটি একটি নোটপ্যাডে সেভ করে রাখুন—যাতে জরুরি সময়ে দ্রুত পাওয়া যায়।
- ফোন করার সময় বিনয়ের সাথে কথা বলুন। “ভাই, আজকে কনফার্ম সিট আছে?” এই প্রশ্ন করলে তারা সহযোগিতা করে।
- দুটি নাম্বার একসাথে ট্রাই করবেন। যেমন ধরা যাক, টিটি পাড়া নাম্বার ব্যস্ত থাকলে ফলস্বরূপ ফার্মগেট বা কমলাপুরে চেষ্টা করুন।
বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু টিপস
গত বছর যখন আমি একুশে এক্সপ্রেসে নোয়াখালী যাই, তখন দেখি কাউন্টারে লম্বা লাইন। কিন্তু ফোনে আগে থেকে টিকিট কনফার্ম করায় আমাকে বসে থাকতে হয়নি। আরেকবার, আমার বন্ধু টঙ্গী বাজার থেকে উঠতে চেয়েছিল, কিন্তু সে মিরপুর-১০ নাম্বারে ফোন করে ভুল তথ্য পেয়েছিল। পরে বুঝলাম প্রতিটি কাউন্টারের ভিন্ন ভিন্ন রুট এবং সময় আছে। তাই আপনার গন্তব্য অনুযায়ী সঠিক কাউন্টার নাম্বার বেছে নিন।
সত্যি বলতে, এই নাম্বারগুলো সংগ্রহ করতে আমার নিজের অনেক সময় লেগেছে। সরাসরি কাউন্টার মাস্টারদের সাথে কথা বলেছি, অনলাইন গ্রুপ ঘাটাঘাটি করেছি। আশা করি এগুলো আপনার কাজে লাগবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
একুশে এক্সপ্রেস বাসের সকল কাউন্টার নাম্বার কি একসাথে পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, উপরের তালিকায় আমি সব কাউন্টারের নাম্বার দিয়েছি—ঢাকা অংশে ২১টি এবং নোয়াখালী অংশে ১০টি। তবে এগুলো নিয়মিত আপডেট হয়। কোনো নাম্বার বন্ধ থাকলে সরাসরি কাউন্টারে যোগাযোগ করা ভালো।
কোন কাউন্টার থেকে নোয়াখালী যাওয়ার বাস সবচেয়ে বেশি ছাড়ে?
মূলত মাইজদী টার্মিনাল (০১৭৩০-৮৯৭৪৫৬) এবং সোনাপুর জিরো পয়েন্ট (০১৭৩০-৮৯৭৪৫১) থেকে বেশি বাস ছাড়ে। এছাড়া চৌমনি ক্রসরোড থেকেও ভালো সার্ভিস আছে।
একুশে এক্সপ্রেসের কাউন্টার নাম্বার কি ২৪ ঘন্টা সচল থাকে?
না, সাধারণত ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সচল থাকে। তবে বড় রুটের জন্য (যেমন সোনাপুর) কখনও কখনও রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। উৎসবের সময় সময়সূচী বাড়তে পারে ফোন করে আগে জেনে নিন।
ফোন করে টিকিট কনফার্ম করলে কি নিশ্চিত সিট পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, সাধারণত ফোনে কনফার্ম করে রাখলে সিট রিজার্ভ হয়। তবে কিছু কাউন্টার আপনাকে কাউন্টারে এসে টাকা দেওয়ার শর্ত দেয়। তাই ফোন করার সময় নিশ্চিত করে নিন “ভাই, ফোনেই কনফার্ম হবে নাকি কাউন্টারে আসতে হবে?”
ঢাকার কোন কাউন্টার থেকে সবচেয়ে দ্রুত নোয়াখালী যাওয়া যায়?
মহাখালী (০১৭৩০-৮৯৭৪১৩) ও কমলাপুর (০১৭৩০-৮৯৭৪১৭) থেকে বাসগুলো সাধারণত ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে ছেড়ে যায়। তবে সকালের দিকে ট্রাফিক কম থাকায় মহাখালী বেশ ভালো অপশন।
যদি কোনো কাউন্টার নাম্বার ব্যস্ত থাকে তাহলে কি করা উচিত?
একটু অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। অথবা একই এলাকার অন্য কাউন্টারে ফোন করুন। যেমন, ফার্মগেট ব্যস্ত থাকলে কাওরান বাজার (ওই একই নাম্বার) বা শ্যামলীতে চেষ্টা করতে পারেন।
২০২৬ সালে এই নাম্বারগুলো কি এখনও সক্রিয় আছে?
হ্যাঁ, আমি ২০২৬ সালের শুরুর দিকের তথ্য দিয়েছি। তবে মাঝে মাঝে কাউন্টার স্থানান্তরিত হতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয় ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া।




